প্রশাসনের নির্দেশে শিরনি বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৮ আগষ্ট- প্রায় ৭০০ বছরের ঐতিহ্য সিলেটের হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার শরীফের বার্ষিক পবিত্র ওরস। খতমে কোরআন, দোয়া, জিকির, মিলাদ, গিলাফ চড়ানো, গরু জবেহ, ফাতেহা পাঠ এবং শেষ দিন আখেরি মোনাজাতের পর শিরনি বিতরণের মধ্য দিয়ে এই ওরসের কার্যক্রম শেষ হয়। তবে এবার প্রশাসনের নির্দেশে শিরনি বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
মাজারের খাদেম আব্দুল আজিজ জানান, প্রশাসন বলেছে শিরনি বিতরণে মারামারির ঘটনা ঘটে। তাই এবার শিরনি দেওয়া যাবে না। তবে অতীতে কখনো মারামারির কারণে শিরনি বন্ধ হয়নি। কেবল করোনাকালে একবার বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছিল।
এবার ওরস উপলক্ষে প্রশাসন সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে সমন্বয় সভা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মাজার এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকবে এবং ড্রোন ক্যামেরায় নজরদারিও চালানো হবে। এছাড়া তদারকি কমিটি গঠন করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পালাক্রমে দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবুও শিরনি বিতরণ বন্ধ করায় প্রশ্ন তুলেছেন নাগরিক সমাজ ও ঐতিহ্য রক্ষাকারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রেজাউল কিবরিয়া বলেন, “ওরসে শিরনি বিতরণ শুধু ধর্মীয় নয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। প্রশাসন যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে, তবে শিরনি বন্ধের কোনো যৌক্তিকতা নেই।”
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, “শিরনি বিতরণ ওরসের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। গরিব মানুষ এখানে আহার পান। বিতরণ বন্ধ করা দুঃখজনক।”
সেভ দ্য হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল হাই আল হাদী একে ‘অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “শিরনি নিয়ে কখনো মারামারি হয়নি। মানুষের আবেগ জড়িত থাকার পরও বিতরণ বন্ধ করাকে ঐতিহ্য ধ্বংসের শামিল।”
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি আগেই বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিলেন, ওরসে পবিত্রতা বজায় রাখতে কঠোর নজরদারি থাকবে এবং কোনো অইসলামিক কার্যকলাপ বরদাশত করা হবে না।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে।
৭০০ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথমবার নিরাপত্তা ও মবের অজুহাতে শিরনি বিতরণ বন্ধ হলো, যা নিয়ে সিলেটের ঐতিহ্য রক্ষাকারী মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে।