গেইলের ১৭৫ রানের রেকর্ড ভাঙতে চান সূর্যবংশী
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- ভারতের তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী জানিয়েছেন, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)-এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড ভাঙতে চান তিনি। কিংবদন্তি ওপেনার ক্রিস গেইল-এর…
মেলবোর্ন, ২৯ আগষ্ট- টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। গত বছরের জুনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি) ও জনতা দল ইউনাইটেডের (জেডিইউ) সমর্থনে সহজেই সরকার গঠন করতে সক্ষম হন তিনি।
কিন্তু তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর মাত্র ১৫ মাসও পূর্ণ হয়নি, এর মধ্যেই বিরোধী দলগুলো তাঁর পদত্যাগের দাবি তুলতে শুরু করেছে।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ
লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচন হয়েছে “ভুলে ভরা ভোটার তালিকা”র ভিত্তিতে। তাঁর দাবি, বৈধ ভোট কেটে দিয়ে ভুয়া ভোটার যুক্ত করা হয়েছিল ইচ্ছাকৃতভাবে, আর এই কাজে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে সহায়তা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও নির্বাচন কমিশন।
বুধবার বিহারের মুজফফরপুরে এক সমাবেশে তিনি বলেন, এই নির্বাচন ছিল পরিকল্পিত ভোট কারচুপির ফল, আর এর শুরু হয়েছিল গুজরাট থেকে, যখন মোদী ছিলেন সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ২০১৪ সাল থেকে জাতীয় পর্যায়ে মোদীর প্রতিটি জয়ের পেছনে ছিল “গুজরাট মডেল” বা ভোট চুরির মডেল।
রাহুল গান্ধীর দাবি, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাটসহ সাম্প্রতিক সব বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটই চুরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মহারাষ্ট্রে অন্তত এক কোটি ভুয়া নাম ভোটার তালিকায় যোগ করা হয়েছিল, যার পুরোটাই বিজেপির পক্ষে কাজে গেছে। তিনি অচিরেই এ–সংক্রান্ত প্রমাণ প্রকাশ করার আশ্বাস দেন।
বিরোধীদের সমর্থন
রাহুল গান্ধীর এই অভিযোগে কংগ্রেস একা নয়। তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টিসহ বহু বিরোধী দল তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে।
তৃণমূলের অভিষেক ব্যানার্জী বলেন, যদি নির্বাচন কমিশন স্বীকার করে ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি আছে, তাহলে ওই তালিকার ভিত্তিতে গঠিত বর্তমান সরকারের কোনো বৈধতা থাকতে পারে না। তাঁর মতে, মোদী ও তাঁর মন্ত্রিসভার পদত্যাগ এবং লোকসভা ভেঙে দেওয়া উচিত।
ডিএমকে নেতা ও তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনও রাহুলের অভিযোগে সমর্থন জানিয়েছেন। বিহারে রাহুলের “ভোটার অধিকার যাত্রা”য় সর্বদা সঙ্গী হয়েছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব।
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান
জাতীয় নির্বাচন কমিশন স্বীকার করেছে, একাধিক রাজ্যের ভোটার তালিকায় ভুয়া নাম আছে এবং সেগুলো বাদ দিতে বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) চলছে। বিহারে এ প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যেই ৬৫ লাখেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে।
কিন্তু বিরোধীদের প্রশ্ন—বিহার বা পশ্চিমবঙ্গের তালিকায় অসঙ্গতি থাকলে মহারাষ্ট্র বা গুজরাট কীভাবে নিখুঁত হলো? তাঁদের অভিযোগ, গোটা দেশেই তালিকা সংশোধন হওয়া উচিত এবং সেই প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে মোদীর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে।
বিজেপির পাল্টা যুক্তি
ক্ষমতাসীন বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ নস্যাৎ করেছে। দলের মুখপাত্র শাহনাজ পুনেওয়ালা বলেছেন, মোদী যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন দিল্লিতে কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় ছিল এবং নির্বাচন কমিশনাররাও তাদের মনোনীত। তাহলে কি কংগ্রেসই মোদীকে ভোট চুরি করিয়েছে?
আরেক নেতা আর পি সিং মনে করিয়ে দিয়েছেন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম এস গিলকে অবসরের পর কংগ্রেস এমপি বানিয়ে মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছিল।
কমিশনের আল্টিমেটাম
গত ১৭ আগস্ট নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছিল, সাত দিনের মধ্যে রাহুল গান্ধী হলফনামার মাধ্যমে তাঁর অভিযোগের প্রমাণ না দিলে সেটি ভিত্তিহীন ধরে নেওয়া হবে। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও রাহুল গান্ধী প্রমাণ বা ক্ষমা কোনোটিই দেননি। কমিশনও জানিয়ে দিয়েছে, অভিযোগ নিয়ে আর কোনো তদন্ত হবে না।
বিরোধীরা এখন একযোগে বলছে, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন ছিল ভুয়া ভোটার তালিকার ওপর দাঁড়ানো, তাই মোদীর পদত্যাগ ও সংসদ ভাঙা ছাড়া কোনো উপায় নেই। বিজেপি আপাতত এ দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, তবে রাজনৈতিকভাবে এই চাপ সরকারকে কীভাবে মোকাবিলা করতে হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au