মেলবোর্ন থেকে সিডনি, অলিম্পিক ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- অলিম্পিকের মশাল অনেক আগেই নিভে গেছে, ক্যালেন্ডারের পাতাও বদলে গেছে বহুবার। তবু অস্ট্রেলিয়া-র মাটিতে এখনও জীবন্ত হয়ে আছে সেই ইতিহাস। মেলবোর্ন-এর শান্ত…
মেলবোর্ন, ৩১ আগষ্ট- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভয়াবহ সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (৩১ আগস্ট) সকাল থেকে চলা এ সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চবি মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক।
সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়দের সঙ্গে মীমাংসার চেষ্টা করতে গিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। স্থানীয়রা লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার জানিয়েছেন, দিনভর অন্তত দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী জখম ও কাটা-ছেঁড়া নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্থানীয় সন্ত্রাসীরা প্রক্টর ও পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। সহউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “এত শিক্ষার্থী আহত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরাই আগে হামলা চালিয়েছে এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত
ঘটনার সূত্রপাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায়। শনিবার গভীর রাতে এক ছাত্রী ভাড়া বাসায় ঢোকার সময় দারোয়ানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে গেলে স্থানীয়রা ইটপাটকেল ছুড়ে সংঘর্ষ শুরু করে। এরপর মাইকিং করে উভয় পক্ষ আরও লোক জড়ো করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
সংঘর্ষের জেরে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট বাজার এলাকা থেকে রেলগেট পর্যন্ত এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে। রবিবার দুপুর ২টা থেকে আগামীকাল সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা পর্যন্ত এ ধারা বহাল থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ সময়ে সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ, মিছিল, পাঁচজনের বেশি লোকের সমাবেশ, অস্ত্র বহন ও গণজমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
শনিবার রাত থেকে ভোর পর্যন্তও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়, যেখানে অন্তত ৫০ শিক্ষার্থী আহত হন। তখন সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রোববার দুপুরে আবারো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন উভয়পক্ষ। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।
চবি মেডিকেলের চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ টিপু সুলতান বলেন, “বহু শিক্ষার্থী আহত অবস্থায় ভর্তি হয়েছেন। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি, গুরুতরদের চমেকে পাঠানো হয়েছে।”
পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au