মেলবোর্ন, ২ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) নিষিদ্ধ করার দাবি। জামায়াত-এনসিপি ও সমমনা কয়েকটি দল এ দাবিতে সরব হলেও বিএনপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয়। আর বিএনপির এই অবস্থানকেই জাপার টিকে থাকার বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত ভোটের অঙ্ক মেলাতেই জাপাকে নিষিদ্ধ করার দাবি সামনে আনা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের একটি অংশ যদি জাতীয় পার্টির পক্ষে যায়, তবে নির্বাচনী ফলাফলে তা বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার সমীকরণে জামায়াত নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত করতে চাইছে। এজন্যই তারা জাপাকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরে নিষিদ্ধের দাবিকে সামনে এনেছে।
অন্যদিকে বিএনপি মনে করছে, হঠাৎ জাপাকে নিষিদ্ধ করার এই ইস্যুর পেছনে ভোট রাজনীতির কৌশলই কাজ করছে। সম্প্রতি দলটিকে বিভক্ত করা ও নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলাকে তারা নতুন ইস্যু তৈরির অংশ হিসেবেই দেখছে।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, ভোটের মাঠে জাপার অভিজ্ঞতা, জনসমর্থন ও পরিচিতির কারণে প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাদের ভয় পাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, উদ্ভট আশঙ্কা থেকে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করা যায় না। প্রয়োজনে তারা আইনগতভাবেই এর মোকাবিলা করবেন।
ভোটের ইতিহাস বলছে, ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে জাপা ৪২.৩ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করেছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাদের ভোট ছিল ৭ শতাংশ। আর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলটি মাত্র ১১টি আসন পেলেও একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক এখনও তাদের রয়েছে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, রাজনৈতিক দলের ভাগ্য নির্ধারণ জনগণের রায়ের মাধ্যমে হওয়া উচিত। একই কথা জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ও গণফোরামের সুব্রত চৌধুরীও।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ভোটের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি সরাসরি ক্ষমতায় না থাকলেও এখনও ‘ফ্যাক্টর’। দলটির প্রতি ভোটারদের একটি অংশের আস্থা রয়েছে বলেই নির্বাচনের আগে তাদের ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।