অস্ট্রেলিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবতে থাকা গাড়ি থেকে চালককে বাঁচালেন সাংবাদিক
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে বন্যার পানিতে ডুবে যেতে থাকা একটি গাড়ি থেকে চালককে উদ্ধার করেছেন টেলিভিশন সাংবাদিক উইল মারে ও এক পথচারী। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঘটে…
মেলবোর্ন, ৫ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর গ্রেফতারের প্রতিবাদে আন্দোলন করা আইনজীবী রমেন রায় এখনো জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বরে শাহবাগে সাম্প্রদায়িক হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর থেকে তার সুস্থ হয়ে ওঠার পথ দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিছুদিন আগে তিনি ধীরে ধীরে কথা বলতে পারছিলেন। এখন আবার কথাও বলতে পারছেন না। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
বৃহস্পতিবার(৪ সেপ্টেম্বর) আইনজীবীর ছোট বোন চন্দ্রা রায় ওটিএন বাংলাকে জানান, রমেন রায়ের শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
তিনি বলেন, “দাদা ভালো নেই। কিছুদিন আগে ধীরে ধীরে কথা বলতে পারছিলেন। এখন আবার কথাও বলতে পারছেন না। কলকাতায় তার চিকিৎসা চলছে। জানি না, দাদাকে আগের মতো করে আর ফিরে পাব কি না। সবাই দাদার জন্য আশীর্বাদ করবেন।”

২০২৫ সালের মার্চে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসে ভর্তি করা হয় রমেন রায়কে। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকার শাহবাগে। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর গ্রেপ্তারের পর সারা দেশে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিন শাহবাগে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে হঠাৎই সাম্প্রদায়িক হামলাকারীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে। সহিংসতায় বহু মানুষ আহত হন। আর লাঠি, বাঁশ ও ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সাবেক ছাত্র, মানবাধিকারের সাহসী কণ্ঠস্বর এডভোকেট রমেন রায়।

সাত মাস পর প্রথমবার দাঁড়াতে সক্ষম হন রমেন রায়। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে লাবএইডে ভর্তি করা হয় তাকে। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় ২৯ ডিসেম্বর জটিল ব্রেইন সার্জারি করা হয়। তবুও থেমে থাকেনি তার লড়াই।
২০২৫ সালের ৮ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতার ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্সেসে ভর্তি করা হয় রমেন রায়কে। বিশেষজ্ঞ ডা. অমিত কুমার ঘোষের তত্ত্বাবধানে আরও একটি সফল অপারেশনের পর ২৬ মার্চ তিনি ছাড়পত্র পান। এরপর হোম কেয়ার ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সাড়া দিতে শুরু করেন। সাত মাস পর প্রথমবার দাঁড়াতেও সক্ষম হন। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অন্তত আরও এক বছর নিয়মিত ওষুধ, ফিজিওথেরাপি ও হোম কেয়ারের আওতায় থাকতে হবে।

হোম কেয়ার ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সাড়া দিতে শুরু করেন রমেন রায়। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
তবে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতি মাসে প্রায় দুই লাখ ভারতীয় রুপি খরচ হচ্ছে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে। এরই মধ্যে জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, বিশেষ করে এর অস্ট্রেলিয়া শাখা, দেশ-বিদেশের শুভাকাঙ্ক্ষী ও প্রবাসীদের সহায়তায় চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে তার পরিবার।
৪৮ বছর বয়সী রমেন রায় শুধু একজন আইনজীবী ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানবাধিকার ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার সাহসী কণ্ঠস্বর। আজ তিনি নিজেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তার সুস্থ হয়ে ওঠা শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন নয়, এটি হয়ে উঠতে পারে একটি সমাজের বড় প্রেরণা।
কলকাতা ইসকনের মুখপাত্র রাধারমন দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “অনুগ্রহ করে আইনজীবী রমেন রায়ের জন্য প্রার্থনা করুন। ইসলামপন্থীরা হামলা চালিয়ে তাকে নৃশংসভাবে পিটিয়েছে। তিনি এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।” পোস্টে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রমেন রায়ের একটি ছবিও প্রকাশ করেন।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। ছবিঃ সংগৃহীত
চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর গ্রেপ্তারের ঘটনায় ভারত সরকার নিন্দা জানিয়েছিল এবং বাংলাদেশ সরকারকে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২২ শতাংশ ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ, যা এখন নেমে এসেছে মাত্র প্রায় ৮ শতাংশে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au