এভার দেহের গড়ন, মুখের গঠন, চোখ-মুখ যেন অসুস্থতার প্রতিচ্ছবি। ছবি: ক্যাসিনো ডট ওআরজি
মেলবোর্ন, ৬ সেপ্টেম্বর- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেতে গিয়ে দিনরাত কনটেন্ট বানানো, লাইভ স্ট্রিমিং, ভিডিও এডিটিং, ঘুমহীনতা আর প্রসাধনীর অতিরিক্ত ব্যবহার—এসবের মাশুল কীভাবে দিতে হতে পারে, তা নিয়ে নতুন এক গবেষণা ভয়াবহ চিত্র এঁকেছে।
ক্যাসিনো ডট ওআরজি (casino.org) চিকিৎসাভিত্তিক গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতে প্রকাশ করেছে ‘এভা’ নামের এক কল্পিত ইনফ্লুয়েন্সার মডেল। চিত্রটি দেখে আঁতকে উঠবেন যে কেউ। অস্বাভাবিক মুখমণ্ডল, ঘাড় বাঁকা হয়ে যাওয়া, ত্বকে ছোপছোপ দাগ, পাতলা চুল, লালচে চোখ ও কালো দাগ—সব মিলিয়ে যেন অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
গবেষণায় বলা হয়েছে, বছরের পর বছর স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে অনেকে আক্রান্ত হচ্ছে ‘টেক্সট নেক সিনড্রোমে’। এতে মাথা সামনের দিকে ঝুঁকে যায়, কাঁধ ঝুলে পড়ে এবং ঘাড় বাঁকা হয়ে যায়। ইন্টারডিসিপ্লিনারি নিউরোসার্জারি জার্নালের গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারে মেরুদণ্ড ১৫ থেকে ৬০ ডিগ্রি কোণে স্থায়ীভাবে বাঁকা হয়ে যেতে পারে।
এভার ত্বকের ছোপছোপ দাগ হলো ‘কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস’-এর ফল। নিয়মিত ভারী প্রসাধনী, বারবার স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট বদলানো এবং অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার ত্বককে অকালেই ক্ষতিগ্রস্ত করে।
দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা, লাইভ স্ট্রিমিং বা ভিডিও এডিটিং-এর কারণে দেখা দেয় ‘কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম’। এতে চোখ লাল হয়, শুষ্ক হয়ে পড়ে, ঝাপসা দেখা দেয়। সেই সঙ্গে চোখের নিচে কালো দাগ ও ফোলাভাব স্থায়ী রূপ নেয়।
ইনফ্লুয়েন্সারদের অনেকেই মাঝরাত পর্যন্ত ভিডিও এডিট করেন, কনটেন্ট তৈরি করেন বা ভ্রমণে থাকেন। ঘুমের অভাবে শুধু চোখের নিচে ফোলাভাব নয়, চুল পড়া, দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি এবং মানসিক চাপও বাড়ে।
‘এভা’র মাথায় পাতলা চুল আর টাক পড়ার কারণ ‘ট্র্যাকশন অ্যালোপেশিয়া’। দীর্ঘদিন ধরে হেয়ার এক্সটেনশন, শক্ত করে চুল বাঁধা বা স্টাইলের চাপ চুলের গোড়া দুর্বল করে দেয়। এতে চুল পাতলা হয়ে যায়, হেয়ারলাইন পেছাতে থাকে।
বারবার ফেসিয়াল, বোটক্স বা লিপ ফিলার ব্যবহার করলে মুখের প্রাকৃতিক গঠন নষ্ট হয়ে যায়। অতিরিক্ত বা ভুল প্রয়োগে মুখ ফুলে যাওয়া, চিবুক সূচালো হয়ে যাওয়া বা মুখমণ্ডলের বিকৃতি স্থায়ী হতে পারে।
গবেষকদের সতর্কবার্তা
প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন,
“ইনফ্লুয়েন্সারদের জীবন অনেক সময় রোমাঞ্চকর মনে হলেও, বছরের পর বছর ধরে অ্যালগরিদমের পেছনে ছোটা, সৌন্দর্যের মানদণ্ড বজায় রাখা আর বিরামহীন কনটেন্ট তৈরির চাপ শরীর ও মনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। ‘এভা’ শুধু কল্পনা নয়, সে হলো দীর্ঘমেয়াদি খারাপ অভ্যাসের ফল।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“বার্তাটি পরিষ্কার: লক্ষ্য পূরণের চাপে নিজের স্বাস্থ্যকে অবহেলা করবেন না। কাজের সময়সীমা নির্ধারণ করুন, ভারসাম্য বজায় রাখুন। মনে রাখুন, স্বাস্থ্য আর সুস্থতাই ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ট্রেন্ড।”
সূত্র: নিউজউইক