এই পদক্ষেপে ওপেনএআই সরাসরি লিংকডইনের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠল। ছবি: দ্য আমেরিকান বাজার
মেলবোর্ন, ৭ সেপ্টেম্বর- চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই ঘোষণা করেছে নতুন এআই-নির্ভর চাকরি খোঁজার প্ল্যাটফর্মের। এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারকারীদের দক্ষতা ও কোম্পানির চাহিদার মধ্যে সঠিক মিল খুঁজে দিয়ে চাকরিপ্রার্থী ও প্রতিষ্ঠানকে সংযুক্ত করবে। সেবার নাম রাখা হয়েছে ‘ওপেনএআই জবস প্ল্যাটফর্ম’। পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি ২০২৬ সালের মাঝামাঝি চালু হবে।
ওপেনএআইয়ের অ্যাপ্লিকেশন বিভাগের সিইও ফিদজি সিমো ব্লগ পোস্টে জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো এআই ব্যবহার করে কোম্পানি ও কর্মীর মধ্যে সঠিক সংযোগ তৈরি করা। বিশেষ করে ছোট ব্যবসা এবং স্থানীয় সরকারি সংস্থা যারা এআই দক্ষ কর্মী খুঁজছেন, তাঁদের জন্য প্ল্যাটফর্মে আলাদা বিভাগ থাকবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ওপেনএআই সরাসরি লিংকডইনের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠল। লিংকডইন দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত নেটওয়ার্কিং ক্ষেত্রে শীর্ষে অবস্থান করছে। বিষয়টি আরও চমকপ্রদ যে, লিংকডইনের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যান ছিলেন ওপেনএআইয়ের প্রাথমিক বিনিয়োগকারীদের একজন।
এছাড়া, লিংকডইন মাইক্রোসফটের মালিকানাধীন এবং মাইক্রোসফটই ওপেনএআইয়ের প্রধান বিনিয়োগকারী। অর্থাৎ, ওপেনএআই একই সঙ্গে বড় অংশীদারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।
ওপেনএআই-এর সম্প্রসারণ
ওপেনএআই চ্যাটজিপিটির বাইরে তার কার্যক্রম সম্প্রসারণের পথে রয়েছে। সিইও স্যাম অল্টম্যান সম্প্রতি জানিয়েছেন, চ্যাটবট ছাড়াও নতুন কয়েকটি অ্যাপ্লিকেশন পরিচালনা করবেন ফিদজি সিমো।
- জবস প্ল্যাটফর্ম ছাড়াও ওয়েব ব্রাউজার এবং সামাজিক নেটওয়ার্কিং অ্যাপ নিয়ে কাজ চলছে।
এদিকে, কর্মীদের এআই দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ওপেনএআই ‘ওপেনএআই একাডেমি’ নামে একটি উদ্যোগও শুরু করেছে। এখানে বিভিন্ন স্তরের ‘এআই ফ্লুয়েন্সি’ সার্টিফিকেশন দেওয়া হবে। ২০২৫ সালের শেষের দিকে এর পাইলট প্রোগ্রাম চালু হবে এবং ওয়ালমার্টের সঙ্গে যৌথভাবে সম্প্রসারণ করা হবে। লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি আমেরিকানকে এআই দক্ষতায় সার্টিফাই করা।
এসব উদ্যোগ মার্কিন হোয়াইট হাউসের এআই সাক্ষরতা কর্মসূচির অংশ। অল্টম্যানসহ অন্যান্য প্রযুক্তি নেতারা হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করবেন।
চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব
ওপেনএআইয়ের নতুন প্ল্যাটফর্মের সূচনা এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন এআইয়ের কারণে চাকরির বাজারে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোডেই জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ এন্ট্রি-লেভেল চাকরি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
ফিদজি সিমো ব্লগে স্বীকার করেছেন, পরিবর্তন অনিবার্য, তবে ওপেনএআইর দায়িত্ব হলো মানুষকে নতুন করে অভিযোজনে সাহায্য করা, এআই দক্ষতা শেখানো এবং সেই দক্ষতা উপযুক্ত কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত করা।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ওপেনএআই চাকরিপ্রার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে এবং পেশাদার জগতে এআইয়ের প্রভাব আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে ও টেকক্রাঞ্চ