যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানে নতুন করে কলেরার প্রাদুর্ভাব, মৃত ১২০
মেলবোর্ন,২ জুলাই-নযুদ্ধবিধ্বস্ত আফ্রিকার দেশ সুদানে নতুন করে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে কলেরা। সর্বশেষ প্রাদুর্ভাবে অন্তত ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে গত মে মাস থেকে…
মেলবোর্ন, ১২ সেপ্টেম্বর- ভারতে দ্রুত বেড়ে চলেছে এক ভয়াবহ সাইবার প্রতারণা—‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’। সম্প্রতি এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন গুরুগ্রামের বাসিন্দা এক নারী, অঞ্জলি (ছদ্মনাম)। মাত্র একটি ফোন কলের সূত্র ধরেই তিনি খুইয়েছেন পাঁচ কোটি ৮৫ লাখ রুপি।
অঞ্জলির জীবনে দুঃস্বপ্নের শুরু হয় গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। একদিন হঠাৎ তিনি একটি ফোন কল পান। অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি নিজেকে একটি কুরিয়ার সংস্থার কর্মচারী পরিচয় দিয়ে জানান—মুম্বাই কাস্টমস বেইজিং পাঠানোর সময় তার একটি পার্সেল জব্দ করেছে। সেই পার্সেল থেকে নাকি মাদক পাওয়া গেছে।
এরপর অভিযুক্তরা ভিডিও কলের মাধ্যমে নিজেদের ভারতের আর্থিক তদারকি সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর কর্মকর্তা সেজে অঞ্জলিকে ভয় দেখাতে শুরু করে। তারা হুমকি দেয়—এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে কিংবা পরিবারের সদস্যরা বিপদের মুখে পড়তে পারে।
পরপর পাঁচ দিন তাকে ২৪ ঘণ্টা স্কাইপ ভিডিও কলে ‘ডিজিটাল বন্দিদশায়’ রাখা হয়। সেই সময়ে তাকে জোর করে কয়েক কিস্তিতে বিশাল অঙ্কের অর্থ ট্রান্সফার করতে বাধ্য করা হয়।
অঞ্জলি বলেন,
“এরপর আমার মাথা কাজ করা বন্ধ দেয়। অসাড় হয়ে গিয়েছিলাম। একসময় যখন কলটি শেষ হলো, তখন আমি সব হারিয়ে ফেলেছি।”
ভারতে ডিজিটাল অ্যারেস্ট প্রতারণা নতুন কিছু নয়। সরকারি তথ্য বলছে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই ধরণের জালিয়াতির মামলা দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৩ হাজারে।
প্রতারকরা মূলত ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনে এবং ভয় দেখিয়ে বিশাল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। ইতিমধ্যেই এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ৪ হাজার স্কাইপ আইডি এবং ৮ হাজার ৩০০-রও বেশি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয়েছে।
সাইবার অপরাধ এতটাই বেড়ে গেছে যে সরকারকে পত্রিকায় পূর্ণ পৃষ্ঠার বিজ্ঞাপন দিতে হয়েছে, টিভি ও রেডিওতে প্রচারণা চালাতে হয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেও জনগণকে সতর্ক করেছেন।
অঞ্জলি অভিযোগ করেছেন—তিনি যখন কোটি কোটি রুপি স্থানান্তর করছিলেন, তার ব্যাংক এইচডিএফসি কোনো সতর্কবার্তা দেয়নি।
গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি আতঙ্কিত অবস্থায় ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় যান। কিন্তু তখনো প্রতারকরা ভিডিও কলে তার ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল। ওইদিন তিনি ২ কোটি ৮০ লাখ রুপি ট্রান্সফার করেন। পরের দিন আবার ট্রান্সফার করেন ৩ কোটি রুপি।
অঞ্জলির প্রশ্ন:
“আমার স্বাভাবিক লেনদেনের চেয়ে ২০০ গুণ বেশি অর্থ একসাথে স্থানান্তরিত হলো, অথচ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো ফোন বা সতর্কবার্তা আসেনি কেন?”
তবে এইচডিএফসি ব্যাংক জানিয়েছে, অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’। ব্যাংকের দাবি, গ্রাহক স্বেচ্ছায় এই লেনদেন করেছেন, এবং জালিয়াতির বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছিল ঘটনার দুই-তিন দিন পর। তাই ব্যাংকের কোনো গাফিলতি নেই।
এখনো পর্যন্ত অঞ্জলি তার খোয়ানো অর্থের মধ্যে মাত্র এক কোটি রুপি উদ্ধার করতে পেরেছেন। আইনজীবীর মতে, সামনে দীর্ঘ আইনি লড়াই অপেক্ষা করছে।
অঞ্জলি বলেন,
“আমি শুধু আমার সম্পত্তি হারাইনি, আত্মবিশ্বাসও হারিয়েছি। এখন প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সাহায্যের আবেদন করেছি।”
ভারতে ডিজিটাল ব্যাংকিং দ্রুত বিস্তার লাভ করলেও সাইবার সিকিউরিটি ও অপরাধ দমনে প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। ব্যাংকের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রতারণা ঠেকাতে অপর্যাপ্ত পদক্ষেপ এবং খোয়া যাওয়া অর্থ ফেরত না পাওয়ার জটিলতা সাধারণ মানুষকে অসহায় করে তুলছে।
অঞ্জলির মতো শত শত ভুক্তভোগী আজ আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ন্যায় ও ক্ষতিপূরণের আশায়।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au