গত শুক্রবার ২৫ কোটি ৭০ লাখ শেয়ার কেনেন ইলন মাস্ক। ছবি: প্যাট্রিক জর্জ
মেলবোর্ন, ১৬ সেপ্টেম্বর- টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলন মাস্ক প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বা ১০০ কোটি ডলারের শেয়ার কিনেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় দাখিল করা এক নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। নতুন এই বিনিয়োগের মাধ্যমে টেসলার ওপর মাস্কের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার হলো।
সংবাদ প্রকাশের পর গতকাল সোমবার দিনের শুরুতে টেসলার শেয়ারের দাম এক লাফে ৮ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।
টেসলা বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা থেকে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপ নিতে চায়। প্রতিষ্ঠানটি রোবোট্যাক্সি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবটিকস খাতে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। এলএসইজির তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মাস্কের হাতে টেসলার প্রায় ১৩ শতাংশ শেয়ার ছিল।
নথি অনুযায়ী, গত শুক্রবার মাস্ক ২৫ কোটি ৭০ লাখ শেয়ার কেনেন। প্রতি শেয়ারের দাম ছিল ৩৭২ দশমিক ৩৭ থেকে ৩৯৬ দশমিক ৫৪ ডলারের মধ্যে। এর আগের দিনই টেসলার শেয়ারের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। যদিও ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত টেসলার শেয়ার প্রায় ২ শতাংশ কমেছে, তবে টানা তিন দিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রেখেছে।
অনেক দিন ধরেই টেসলায় বেশি ভোটাধিকার দাবি করে আসছেন মাস্ক। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি কমপক্ষে ২৫ শতাংশ ভোটক্ষমতা না পান, তবে তিনি টেসলার বাইরে গিয়ে এআই ও রোবটিকস প্রযুক্তি তৈরি করবেন।
চলতি মাসের শুরুতে টেসলার পরিচালনা পর্ষদ মাস্ককে এক ট্রিলিয়ন ডলারের পারিশ্রমিক প্যাকেজ প্রস্তাব করে, যা তাঁর নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। যদিও প্রতিষ্ঠানটি বৈদ্যুতিক গাড়ির দুর্বল চাহিদা ও প্রবল প্রতিযোগিতার কারণে চাপে রয়েছে।
এদিকে টেসলার বোর্ড চেয়ার রবিন ডেনহোম জানিয়েছেন, মাস্ক এখন আবার প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে এসেছেন। হোয়াইট হাউসে কয়েক মাস কাটানোর পর তিনি পুরোপুরি টেসলায় মনোযোগ দিচ্ছেন।
তবে মাস্কের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যা কোম্পানির শেয়ারের ওপরও প্রভাব ফেলেছে।