ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’-এর দাপট, আলোচনায় ‘সিনার্স’ও
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ: লস অ্যাঞ্জেলসে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কার ২০২৬। এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে “One Battle After Another”,…
মেলবোর্ন, ১৮ সেপ্টেম্বর- ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ মানবিক সংকট দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে। জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ জানিয়েছে, বর্তমানে গাজায় অন্তত ২৬ হাজার শিশু তীব্র অপুষ্টির শিকার। শুধু গাজা নগরীতেই এ সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। এসব শিশুর জরুরি চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন হলেও যুদ্ধ, অবরোধ ও ত্রাণ সংকট পরিস্থিতিকে চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
গত মঙ্গলবার জেনেভায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করেন ইউনিসেফের মুখপাত্র টেস ইনগ্রাম। তিনি জানান, আগস্ট মাসে গাজায় প্রতি আট শিশুর একজন মারাত্মক অপুষ্টিতে আক্রান্ত ছিল—যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ হার। বিশেষ করে গাজা নগরীতে এই অনুপাত দাঁড়িয়েছে প্রতি পাঁচ শিশুর একজন। এ ধরনের পরিস্থিতি শিশুদের জীবনকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
একই দিন ইসরায়েলি সেনারা গাজা নগরীতে বড় ধরনের স্থল অভিযান শুরু করে। অভিযানের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষকে জোরপূর্বক ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হচ্ছে। ইনগ্রাম সতর্ক করে বলেন, শহরের পুষ্টিকেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অপুষ্টিতে ভোগা হাজারো শিশু এখন মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে।
যদিও ইসরায়েল দাবি করছে, দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় আশ্রয় নেওয়া মানুষদের জন্য খাদ্য, ওষুধ ও তাঁবুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। ইউনিসেফ জানায়, ঘোষিত এসব ‘মানবিক আশ্রয় এলাকা’তেও ইসরায়েলি সেনাদের হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে মানুষ আশ্রয় ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
টেস ইনগ্রাম আরও বলেন, “গাজায় সাত শতাধিক দিনের যুদ্ধ-ধ্বংসযজ্ঞে প্রায় পাঁচ লাখ শিশু এক নরক থেকে আরেক নরকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অমানবিক এবং অগ্রহণযোগ্য।”
জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাবে, গাজা নগরী ও আশপাশের এলাকা থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ১০ লাখ মানুষের ৪০ শতাংশ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটের কারণে মানুষের জীবন ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে।
গাজার সর্বত্র ত্রাণের জন্য হাহাকার চলছে। বিভিন্ন বিতরণকেন্দ্রে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে হাজারো মানুষ ভিড় করছেন। এমনই এক কেন্দ্রে খাবার না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে এক শিশু—যা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
সুত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au