ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’-এর দাপট, আলোচনায় ‘সিনার্স’ও
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ: লস অ্যাঞ্জেলসে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কার ২০২৬। এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে “One Battle After Another”,…
মেলবোর্ন, ২০ সেপ্টেম্বর- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষ কর্মী ভিসা এইচ-১বি–এর ওপর প্রতিবছর ১ লাখ ডলার ফি আরোপ করে নতুন এক নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। শুক্রবার জারিকৃত এ আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত হাজারো বিদেশি বিশেষজ্ঞ পেশাজীবীর ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর এইচ-১বি ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিল ভারত। ২০২৪ সালে মোট অনুমোদিত ভিসার ৭১ শতাংশ পেয়েছেন ভারতীয় নাগরিকেরা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীনের শেয়ার ছিল মাত্র ১১ দশমিক ৭ শতাংশ।
প্রযুক্তি খাতের বড় বড় কোম্পানিই এই ভিসার ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। এ বছরের প্রথমার্ধে অ্যামাজন ও এর ক্লাউড কম্পিউটিং ইউনিট এডব্লিউএস পেয়েছে ১২ হাজারের বেশি ভিসা অনুমোদন। একই সময়ে মাইক্রোসফট ও মেটা—দুটোই ৫ হাজারের বেশি ভিসা পেয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন,
“সব বড় বড় প্রতিষ্ঠানই বছরে ১ লাখ ডলার ফি দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি।”
তবে এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অনীহা দেখিয়েছে।
ভারত বা চীন—কোনো দেশই এখনো ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ওয়াশিংটনে ভারতীয় দূতাবাস ও নিউইয়র্কে চীনা কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের এ ঘোষণার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান কগনিজ্যান্ট টেকনোলজি সলিউশনসের শেয়ারের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে গেছে। ভারতীয় কোম্পানি ইনফোসিস ও উইপ্রোর শেয়ারের মূল্যও ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সিদ্ধান্তে ভারতীয় নাগরিকেরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিনকার্ড পাওয়ার আগে সাধারণত দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয় এবং সেই সময় তাঁদের একাধিকবার ভিসা নবায়ন করতে হয়। এখন প্রতিবার নবায়নে অতিরিক্ত ১ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হবে।
আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিলের নীতিনির্ধারণী পরিচালক অ্যারন রাইকলিন-মেলনিক বলেন,
“কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস আবেদনপ্রক্রিয়ার খরচ হিসেবে ফি নির্ধারণ করতে পারে। ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত বৈধ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।”
প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৬৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা দেওয়া হয়। এর বাইরে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসা অনুমোদিত হয়। সাধারণত এই ভিসার খরচ নিয়োগকর্তারাই বহন করে থাকেন। ভিসার মেয়াদ হয় তিন থেকে ছয় বছর।
একই দিনে ট্রাম্প আরেকটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। এতে বলা হয়েছে, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করতে পারবেন, তাঁদের জন্য বিশেষ ‘গোল্ড কার্ড’ ভিসা চালু করা হবে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au