ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’-এর দাপট, আলোচনায় ‘সিনার্স’ও
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ: লস অ্যাঞ্জেলসে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কার ২০২৬। এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে “One Battle After Another”,…
মেলবোর্ন, ২১ সেপ্টেম্বর- ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নির্বাচনী বিতর্কের মঞ্চে উঠতে যাচ্ছিলেন কমলা হ্যারিস। ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা আগে তাঁকে ফোন করেছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি বাইডেন কথায় কথায় জানান, তাঁর ভাইয়ের প্রভাবশালী কিছু সহযোগী নাকি কমলাকে সমর্থন করতে চান না। গুরুত্বপূর্ণ এক দিনের আগে এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হন কমলা।
নিজের নতুন স্মৃতিচারণমূলক বই “হানড্রেড অ্যান্ড সেভেন ডেজ” (১০৭ দিন)-এ এ ঘটনার বিস্তারিত লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। বইটি আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করছে মার্কিন প্রকাশনা সংস্থা সাইমন অ্যান্ড শুস্টার। প্রকাশের আগেই দ্য গার্ডিয়ান বইটির একটি কপি হাতে পেয়েছে।
বইয়ে কমলা লিখেছেন, ঘটনাটি ঘটেছিল সেপ্টেম্বর মাসে। তিনি তখন ফিলাডেলফিয়ার এক হোটেলে থেকে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ওই সময় ফোন করেন জো বাইডেন। শুভকামনা জানাতে গিয়ে বাইডেন বলেন, তাঁর ভাই স্থানীয় ক্ষমতাধর কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন, যাঁরা কমলাকে সমর্থন করতে রাজি নন।
এমন বার্তায় হতাশ হন কমলা। তিনি মনে করেন, বিতর্কটি হবে এক ধরনের “বড় মুষ্টিযুদ্ধ”, যার প্রভাব পড়বে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে। অথচ বাইডেন তাঁকে সাহস জোগানোর পরিবর্তে অযথা দুশ্চিন্তায় ফেলে দেন।
কমলা লিখেছেন, ওই সময় তাঁর ‘রাগান্বিত ও হতাশাজনক’ অবস্থাটা লক্ষ্য করেছিলেন স্বামী ডগ এমহফ। তিনি স্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “ওঁকে (বাইডেন) নিয়ে ভাবনা কোরো না। তোমার আসল প্রতিপক্ষ ট্রাম্প।”
নিজের বইয়ে কমলা বাইডেনের প্রশাসন পরিচালনার দক্ষতা ও নির্বাচনী প্রচারের সক্ষমতার মধ্যে তফাৎ তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্ট যখন গর্ভপাতের অধিকারবিষয়ক আগের রায় বাতিল করে, তখন বাইডেন যথাসময়ে দৃঢ় বার্তা দিতে হিমশিম খেয়েছিলেন। তাঁর কণ্ঠ দুর্বল হয়ে আসছিল, আর কথায় কথায় হোঁচট খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছিল।
এ ছাড়া কমলা অভিযোগ করেছেন, অনেক সময় বাইডেনের দলের ভেতর থেকেও তিনি অযথা সমালোচনার শিকার হয়েছেন। তাঁর মতে, দলের মনোভাব ছিল অনেকটা এ রকম—“যদি আমি উজ্জ্বল হই, তবে তিনি ম্লান হয়ে যাবেন।”
জিল বাইডেনকে চিন্তিত দেখেছিলেন
কমলা বইয়ে আরও উল্লেখ করেছেন ৪ জুলাইয়ের একটি বৈঠকের কথা। তখন ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে বাইডেনের দুর্বল পারফরম্যান্সের পর তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জোরদার হচ্ছিল। ওই বৈঠকে কমলা লক্ষ্য করেছিলেন, ফার্স্টলেডি জিল বাইডেনকে বেশ চিন্তিত ও ক্ষুব্ধ দেখাচ্ছিল। তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন, “আপনারা কি আমাদের সমর্থন করছেন?”
বইটির প্রকাশের আগে ফাঁস হওয়া এই তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বাইডেনের প্রতি কমলার ক্ষোভ, হতাশা এবং দলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসায় এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সুত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au