ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’-এর দাপট, আলোচনায় ‘সিনার্স’ও
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ: লস অ্যাঞ্জেলসে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কার ২০২৬। এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছে “One Battle After Another”,…
মেলবোর্ন, ২১ সেপ্টেম্বর- গত সপ্তাহে কাতারে ইসরায়েলের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রো-ইসরায়েল ভাষ্যকাররা দৃষ্টি ঘুরিয়ে নেন তুরস্কের দিকে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও “অ-ন্যাটো প্রধান মিত্র” কাতারের ওপর এমন হামলার পর তুরস্ককে ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্য বানানো হতে পারে বলে সতর্ক করেন ওয়াশিংটনের আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল রুবিন। তিনি বলেন, তুরস্ক যেন তার ন্যাটো সদস্যপদকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ভেবে নির্ভর না করে।
একইসঙ্গে, ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেইর মাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন—“আজ কাতার, কাল তুরস্ক।” এতে আঙ্কারার প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্র। প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের এক শীর্ষ উপদেষ্টা কড়া ভাষায় জবাব দেন: “সিয়োনিস্ট ইসরায়েলের কুকুর… খুব শিগগিরই মানচিত্র থেকে তোমাদের মুছে গেলে পৃথিবী শান্তি পাবে।”
গত কয়েক মাসে প্রো-ইসরায়েল গণমাধ্যমগুলো তুরস্ককে “ইসরায়েলের সবচেয়ে বিপজ্জনক শত্রু” আখ্যা দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে আসছে। তারা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের উপস্থিতিকে “হুমকি” হিসেবে বর্ণনা করছে এবং যুদ্ধোত্তর সিরিয়া পুনর্গঠনে তুরস্কের ভূমিকা নিয়ে নতুন এক “উদীয়মান বিপদ” তত্ত্ব ছড়াচ্ছে।
গাজার যুদ্ধ চলমান ও ইসরায়েলের আগ্রাসী অবস্থান বেড়ে যাওয়ায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আগস্টে ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করেন।
আঙ্কারা মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর ওপর নিরাপত্তার ভরসা রাখা সম্ভব নয়। কারণ, কাতার যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ মিত্র হয়েও ইসরায়েলের হামলা থেকে কোনো সুরক্ষা পায়নি।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু খোলাখুলিভাবে আঞ্চলিক সম্প্রসারণবাদী লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। আগস্টে তাকে যখন “গ্রেটার ইসরায়েল” ধারণায় বিশ্বাস করেন কিনা জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি স্পষ্টভাবে বলেন: “অবশ্যই।”
ফিদান আল জাজিরাকে বলেন, “গ্রেটার ইসরায়েল” ধারণার উদ্দেশ্য হলো—সিরিয়া, লেবানন, মিশর ও জর্ডানসহ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে দুর্বল ও বিভক্ত রাখা, যাতে ইসরায়েল একক আধিপত্য বজায় রাখতে পারে।
ইসরায়েল গাজায় গণহত্যামূলক হামলা চালানো ছাড়াও ইয়েমেন ও সিরিয়ায় আঘাত করেছে এবং তিউনিসিয়ার উপকূলে গাজা সহায়তা বহরের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্লেষক ওমের ওজকিজিলসিকের মতে, ইসরায়েলের এসব পদক্ষেপ তুরস্কের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে এসেছে। তুরস্ক চায় শক্তিশালী কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র, আর ইসরায়েল চায় বিভক্ত দুর্বল রাষ্ট্র।
অবসরপ্রাপ্ত তুর্কি অ্যাডমিরাল সেম গুরদিনিজ সতর্ক করে বলেন, তুরস্ক-ইসরায়েল সংঘাতের প্রথম প্রকাশ সম্ভবত সিরিয়ার আকাশ ও স্থলভাগে দেখা দেবে। একইসঙ্গে, গ্রিস ও গ্রিক সাইপ্রাস প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইসরায়েলের সাইপ্রাসে সামরিক উপস্থিতি আঙ্কারার কাছে সরাসরি “ঘেরাও কৌশল” হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েল ইতোমধ্যে সিরিয়ায় বহুবার বিমান হামলা চালিয়েছে, হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্ব ধ্বংস করেছে, লেবাননের অংশ দখলে রেখেছে, ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত করেছে। এসবের মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের দুর্বল করে নিজের আধিপত্য কায়েম করাই তাদের লক্ষ্য।
তুরস্ক সিরিয়ার নতুন প্রশাসনকে সমর্থন দিচ্ছে, যারা একটি একক ও কেন্দ্রীয় রাষ্ট্র কাঠামো বজায় রাখতে চায়। অন্যদিকে, ইসরায়েল সিরিয়াকে বিভিন্ন “স্বায়ত্তশাসন” ভাগে বিভক্ত করতে চাপ দিচ্ছে।
তুরস্কের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেটার পরিচালক মুরাত ইয়েসিলতাস বলেন, “সিরিয়ায় বিভাজনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা গোটা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।”
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘোষণা দিয়েছেন, দক্ষিণ সিরিয়ার নবদখলকৃত এলাকা তারা “অনির্দিষ্টকালের জন্য” ধরে রাখবে। এরই মধ্যে ইসরায়েল তুরস্কের সম্ভাব্য সামরিক ঘাঁটি বোমাবর্ষণ করেছে। ইয়েসিলতাস সতর্ক করে বলেন, “যদি তেলআবিব এই পথে অটল থাকে, তাহলে আঙ্কারা ও তেলআবিবের সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠবে।”
তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, পূর্ণাঙ্গ সংঘাত এখনো অবশ্যম্ভাবী নয়, কারণ উভয় পক্ষই অর্থনৈতিকভাবে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, ইসরায়েল সরাসরি সামরিক আক্রমণের পরিবর্তে “গোপন অভিযান, বিমান হামলা ও প্রক্সি যুদ্ধের” মাধ্যমে তুরস্কের স্বার্থে আঘাত হানতে পারে।
তিনি পরামর্শ দেন, আঙ্কারাকে কৌশলগত প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে হবে, বিশেষ করে বিমান প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে। পাশাপাশি কাতার, জর্ডান ও ইরাকের সঙ্গে আঞ্চলিক জোট গঠন করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে, যাতে পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত বিচ্ছিন্নতা এড়ানো যায়।
এলিস জেভোরি ইস্তাম্বুলে বসবাসকারী একজন সাংবাদিক। তিনি বলকান, তুরস্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের উপর লেখালেখি করেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au