ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…
মেলবোর্ন, ২২ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশ সহ বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঙালী হিন্দু সম্প্রদায় রবিবার ভক্তি আর আনন্দে উদযাপন করছে মহালয়া।
মহালয়া’ শব্দের অর্থ মহান আশ্রয় বা আলয়। শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কারণ এই দিনেই পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ঘটে এবং অমাবস্যার অন্ধকার সরিয়ে আলোকময় দেবীপক্ষের সূচনা হয়। দেবী দুর্গাকেই এখানে সেই মহান আশ্রয় হিসেবে দেখা হয়।
সবার কাছে মহালয়া মানেই দুর্গাপূজার দিন গণনার শুরু। মহালয়ার ছয় দিন পর মহাসপ্তমীর মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল পূজা।
পুরাণ মতে, ত্রেতা যুগে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র লঙ্কা বিজয় ও সীতা উদ্ধারের উদ্দেশ্যে অকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেছিলেন। বসন্তকালীন পূজাই আসল দুর্গাপূজা, যাকে বলা হয় বাসন্তী পূজা। তবে রামচন্দ্র অসময়ে পূজা করায় শরৎকালের এই পূজা পরিচিত হয় শারদীয় পূজা নামে, আর দেবীর অকালবোধন হিসেবেও অভিহিত হয়।
সনাতন ধর্ম মতে, যে কোনো শুভ কাজ শুরু করার আগে বা বিবাহের পূর্বে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ ও অঞ্জলি দেওয়া হয়, যা জীবজগতের কল্যাণ কামনাতেও নিবেদিত থাকে। তর্পণের অর্থ হলো তুষ্ট করা বা খুশি করা। শ্রীরামও লঙ্কা অভিযানের আগে এই আচার সম্পাদন করেছিলেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে মহালয়া মানে শারদীয় দুর্গোৎসবের পবিত্র সূচনা, যে উৎসবকে বলা হয় বাঙালির প্রাণের উৎসব। পুরাণে উল্লেখ আছে, দেবী দুর্গা দশভুজা রূপে সিংহবাহিনী হয়ে নয়দিনব্যাপী রণ শেষে ধ্বংস করেন অসুরশক্তিকে। সেই মহামায়ার আগমনবার্তাই নিয়ে আসে মহালয়া। এদিনই চণ্ডীপাঠে দেবী আহ্বানের মাধ্যমে ভক্তদের হৃদয়ে জাগ্রত হয় শুভশক্তির উপস্থিতি।
মহালয়ার আরেকটি দিক হলো পিতৃপক্ষের সমাপন। প্রভাতে তিল, জল ও আহারের মাধ্যমে পূর্বপুরুষের উদ্দেশে শ্রদ্ধার্পণ করা হয়, যাতে তারা আশীর্বাদ প্রদান করেন উত্তরসূরিদের। তাই মহালয়া একইসঙ্গে ভক্তির, স্মৃতির এবং মানবিকতার দিন।
ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপে মহালয়া উপলক্ষে হয়েছে চণ্ডীপাঠ, চক্ষুদান, ঘট স্থাপনসহ বিশেষ আচার। মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সমন্বয়ে রামকৃষ্ণ মিশন, বড়দেশ্বরী কালিমাতা মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল এবং রমনা কালী মন্দিরসহ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে মহালয়ার নানা আয়োজন হয়। এদিন দেবীর প্রতিমায় প্রতীকীভাবে আঁকা হয় চক্ষু, যা দেবীর মর্ত্যে আগমনের প্রতীক হিসেবে ভক্তমনে গভীর আবেগ জাগিয়ে তোলে।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে বেঙ্গলি পূজা এন্ড কালচারাল সোসাইটি অফ ভিক্টোরিয়াও মহালয়ার আয়োজন করেছে।
মহালয়া আমাদের মনে করিয়ে দেয় অশুভের দাপট যত বড়ই হোক, শুভশক্তির জয় অবশ্যম্ভাবী। এটি কেবল আধ্যাত্মিক নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জাগরণেরও উৎস।
পাঠক, স্পন্সর ও শুভানুধ্যায়ীদের জন্য শুভেচ্ছা-
OTN Bangla পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা আমাদের সকল পাঠক, শুভানুধ্যায়ী এবং বিশ্বব্যাপী স্পন্সরদের প্রতি দুর্গাপূজার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। মা দুর্গার আগমনে আপনার জীবন হোক শান্তি, আনন্দ ও সমৃদ্ধিতে ভরপুর।
ভয়হীনভাবে প্রামাণিক সংবাদ ও মতামত প্রকাশে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনাদের অব্যাহত সমর্থনই আমাদের শক্তি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমাদের একটাই প্রার্থনা শুভ শক্তির জয় হোক, অশুভের বিনাশ ঘটুক, আর মানবিকতায় আলোকিত হোক আমাদের সমাজ।
শুভ শারদীয় দুর্গোৎসব।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au