২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু
মেলবোর্ন, ২ মে- দেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং একই সময়ে…
মেলবোর্ন, ২২ সেপ্টেম্বর– আফগানিস্তানের ঐতিহ্যবাহী বাগরাম বিমানঘাঁটি পুনরায় দখল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়ে চলেছে। দেশটি যদি ঘাঁটিটি ওয়াশিংটনের হাতে তুলে দিতে অনিচ্ছুক থাকে, তাহলে “খারাপ কিছু” ঘটতে পারে—এই ধরনের সতর্কবার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কাবুলের অবস্থান স্পষ্ট: ঘাঁটিটি ফেরানো হবে না।
ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লেখেন, বাগরাম ঘাঁটি “যারা নির্মাণ করেছে, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের” — যদি সেটা ফেরত না দেয়া হয়, তাহলে “খারাপ কিছু” ঘটতে পারে। ঘাঁটিটি ফেরত নিয়ে বিস্তারিত কী পরিকল্পনা তা তিনি প্রকাশ করেননি। এর আগে লন্ডনে সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, চীনকে মোকাবিলার জন্যই ঘাঁটিটি ফিরে পেতে চায় যুক্তরাষ্ট্র—কারণ চীনের পারমাণবিক সুবিধা থেকে বাগরাম মাত্র এক ঘণ্টার পথ বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তালেবানের সম্মতি নিয়ে ঘাঁটিটি পুনরায় দখল নেবে যুক্তরাষ্ট্র।
তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প ও তাঁর নিরাপত্তা সংক্রান্ত উপদেষ্টা-দল অন্তত এক মাস ধরে ঘাঁটিটি ফেরত পেতে নানা বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন। সূত্রের কথায়, বাগরাম ঘাঁটির পেছনে বিভিন্ন কৌশলগত স্বার্থ আছে:
চীনের ওপর নজরদারি। ঘাঁটি চীনের কাছে অবস্থানগত সুবিধা দেয় বলে আলোচনা হচ্ছে।আফগানিস্তানের বিরল খনিজ সম্পদ। সেখানে মজুদ থাকা বিরল খনিজ খোঁজার ও উত্তোলনের সম্ভাব্যতা।সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম। ইসলামিক স্টেটের মত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অপারেশন চালানোর সুবিধা।কূটনৈতিক সুবিধা। অঞ্চলীয় কূটনৈতিক উপস্থিতি ও প্রভাব বাড়ানো।
তবে এসব লক্ষ্য পূরণে আফগানিস্তানে পুনরায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রয়োজন হতে পারে, এবং সেটি ২০২০ সালের তালেবান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির অনুচ্ছেদগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক—সেই চুক্তিতে দেশ থেকে সকল মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছিল। কিভাবে সেনা ছাড়া ঘাঁটিটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা এখনও অনিশ্চিত আছে।
ট্রাম্প শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদেরও একই বিষয়ে মন্তব্য করেন। যখন তাকে প্রশ্ন করা হয়—ঘাঁটিটি ফিরিয়ে পেতে আফগানিস্তানে কি মার্কিন সৈন্য পাঠানো হবে—তখন তিনি বলেন, “এ নিয়ে আমরা কথা বলব না। আমরা এখন আফগানিস্তানের সঙ্গে কথা বলছি। এবং এটি দ্রুত ফিরে পেতে চাই। তারা যদি এটা না করে, আপনারা দেখতে পাবেন, আমি কী করতে যাচ্ছি।”
এরই মধ্যে রবিবার বাগরাম ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তান্তরের যে সম্ভাব্য আলোচনা ট্রাম্প তুলেছিলেন, তা আফগানিস্তান নাকচ করেছে। তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ ফাসিহউদ্দিন ফিতরাত স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “আফগানিস্তানের এক ইঞ্চি মাটিও চুক্তির বিনিময়ে দেয়া হবে না। আমাদের এর কোনো প্রয়োজন নেই।”
বাগরাম ঘাঁটি প্রথম নির্মাণ হয় ১৯৫০-এর দশকে সোভিয়েত যুগে; আশির দশকে তা সোভিয়েত বাহিনীর প্রধান ঘাঁটি ছিল। ২০০১ সালে মার্কিন অভিযানের পর ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং দুই দশক মার্কিন কর্তৃত্বে থাকার পর ২০২১ সালে তালেবানের অগ্রযাত্রায় সেখানে থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে। এ ঘাঁটিটির পাশে এক সময় নির্মিত কারাগারটিকে প্রায়শই আফগানিস্তানের “গুয়ানতানামো বে” হিসেবে অভিহিত করা হয়।
সুত্রঃ সিএনএন ও রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au