সুদের হার বৃদ্ধি, অস্ট্রেলিয়ায় কমছে বাড়ির দাম
মেলবোর্ন,১ জুলাই- ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং বিনিয়োগে কঠোর করনীতির প্রভাবে অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। গত জুন মাসে…
মেলবোর্ন, ২৩ সেপ্টেম্বর- আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) ঘিরে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে যাচ্ছে। ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ তদন্তের প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এবার পুরো আদালতের ওপরই নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে আদালতের দৈনন্দিন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে এক প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্স জানায়, ওয়াশিংটন এরই মধ্যে কয়েকজন আইসিসি বিচারক ও প্রসিকিউটরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে এবার পুরো আদালতকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হলে তা হবে বড় ধরনের নাটকীয় ঘটনা।
এ বিষয়ে অবগত ছয়টি সূত্র জানিয়েছে, “এনটিটি স্যাংশন” বা পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত খুব শিগগিরই ঘোষণা হতে পারে। সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় আদালত জরুরি বৈঠক করেছে এবং কূটনৈতিক মহলেও এ নিয়ে আলোচনা চলছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আদালতকে টার্গেট করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে সময়সীমা নির্দিষ্ট করে জানাননি তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র অভিযোগ করেন, আদালত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নাগরিকদের ওপর “অযৌক্তিক এখতিয়ার” প্রয়োগ করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, আদালত যদি কাঠামোগত পরিবর্তন না আনে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সেনাসদস্য ও স্বার্থ রক্ষায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেবে।
যদি পুরো প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়, তাহলে কর্মীদের বেতন প্রদান, ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার বা সফটওয়্যার চালানো পর্যন্ত বিঘ্নিত হতে পারে। এ কারণে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে আদালতের কর্মীদের ২০২৫ সালের বাকি সময়ের বেতন আগাম পরিশোধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিকল্প ব্যাংকিং সেবা ও সফটওয়্যার সরবরাহকারীর খোঁজ চলছে।
নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক আইসিসি ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্ট এবং হামাসের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছে।
এর আগে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড তদন্ত নিয়েও আদালতের কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আদালতের ১২৫ সদস্য দেশের কয়েকটি আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা ঠেকানোর চেষ্টা করবে। তবে সব ইঙ্গিতেই বোঝা যাচ্ছে, ওয়াশিংটন এবার আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই আদালতকে “জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি” এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে “আইনের অপব্যবহারের হাতিয়ার” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচার করার এখতিয়ার রাখে। তবে শর্ত হলো, অপরাধটি অবশ্যই সদস্য রাষ্ট্রের ভূখণ্ডে বা নাগরিক দ্বারা সংঘটিত হতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই আদালতের সদস্য নয়। তবে ফিলিস্তিনকে সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আইসিসি, এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের বিচার করার এখতিয়ার দাবি করছে। এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়েই প্রত্যাখ্যান করেছে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউস আদালতের প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। তিনি নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। বর্তমানে যৌন হয়রানির অভিযোগে তদন্তের মুখে ছুটিতে আছেন করিম খান, যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au