সুদের হার বৃদ্ধি, অস্ট্রেলিয়ায় কমছে বাড়ির দাম
মেলবোর্ন,১ জুলাই- ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং বিনিয়োগে কঠোর করনীতির প্রভাবে অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। গত জুন মাসে…
মেলবোর্ন, ২৪ সেপ্টেম্বর-নিউজিল্যান্ডে নিজের দুই সন্তানকে হত্যার পর তাদের মরদেহ স্যুটকেসে ভরে রাখার ঘটনায় আলোচিত মামলায় হাকিয়ং লি নামে এক মা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। মঙ্গলবার অকল্যান্ড হাই কোর্টে এ রায় ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচিত এই মামলার রায়কে ঘিরে জনমনে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্ম নেওয়া হাকিয়ং লি নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্বও অর্জন করেছিলেন। ২০২২ সালের আগস্টে দক্ষিণ অকল্যান্ডের একটি স্টোরেজ ইউনিট থেকে উদ্ধার করা হয় দুই শিশুর মরদেহ, যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে স্যুটকেসে লুকিয়ে রাখা ছিল। নিহত ইউনা জো (৮) এবং মিনু জো (৬) হত্যার সময় মাত্র শিশু ছিল। ফরেনসিক রিপোর্টে উঠে আসে, তারা মৃত্যুর তিন থেকে চার বছর আগে খুন হয়েছিল।
মরদেহ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ লির সন্ধান শুরু করে। পরে তাকে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রত্যর্পণের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডে আনা হয়।
আদালতে লি স্বীকার করেন, তিনি সন্তানদের হত্যা করেছেন। তবে প্রশ্ন ছিল—হত্যার সময় তিনি মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন কি না, এবং নিজের কাজ যে নৈতিকভাবে ভুল তা তিনি বুঝেছিলেন কি না। নিউজিল্যান্ডের আইনে কোনো অভিযুক্তকে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত মানসিকভাবে সুস্থ হিসেবে ধরা হয়।
লির পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, ২০১৭ সালে স্বামীর মৃত্যু তাকে গভীর বিষণ্নতায় ফেলে দেয়। এক ফরেনসিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, লি তীব্র হতাশা, আত্মহত্যার চিন্তা ও অপরাধবোধে ভুগছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন সন্তানদের হত্যা করে তিনি এক ধরনের নৈতিক দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে প্রসিকিউশন যুক্তি দেয়, লি সচেতনভাবেই সন্তানদের হত্যা করেছেন। হত্যার পর মরদেহ লুকিয়ে ফেলা এবং দেশ ত্যাগ করার মধ্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে তিনি নিজের কাজকে অপরাধ হিসেবে বুঝেছিলেন। প্রসিকিউটর ন্যাটালি ওয়াকার বলেন,
“মিস লি সচেতনভাবে মিনু ও ইউনাকে হত্যা করেছেন। তাই সঠিক রায় হলো—খুনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত।”
প্রসিকিউশন আরও জানায়, লি হত্যার পর নিজের নাম পরিবর্তন করেন এবং নিউজিল্যান্ডের অতীত জীবন থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে কোরিয়ায় ফিরে যান, যা তার সচেতন মানসিক অবস্থার প্রমাণ বহন করে।
মঙ্গলবার মাত্র দুই ঘণ্টার আলোচনার পর জুরি লিকে দোষী সাব্যস্ত করে। রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি জিওফ্রি ভেনিং বলেন,
“অল্পবয়সী দুই শিশুর মৃত্যুতে দুঃখবোধ হওয়া স্বাভাবিক। আবার কেউ কেউ আসামির প্রতিও সহানুভূতি অনুভব করতে পারেন। তবে আপনাদের দায়িত্ব হলো কেবলমাত্র সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে রায় দেওয়া।”
বর্তমানে ৪৫ বছর বয়সী হাকিয়ং লিকে প্রথমে মানসিক স্বাস্থ্য আইনের আওতায় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে রাখা হতে পারে। এরপর তাকে কারাগারে নেওয়া হবে। নিউজিল্যান্ডের আইনে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হলো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ন্যূনতম ১০ বছর সাজা ভোগের পরই তিনি প্যারোলের আবেদন করতে পারবেন। আগামী নভেম্বর মাসে তার চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করা হবে।
তিন সপ্তাহব্যাপী এই মামলার পুরো সময় লি আদালতে ছিলেন নীরব। তিনি অনুবাদক ও নিরাপত্তারক্ষীর মাঝখানে মাথা নিচু করে বসে থাকতেন। চুলে ঢাকা থাকত মুখ। যদিও তিনি নিজেকে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, তবুও একবারও কোনো প্রশ্ন করেননি বা বক্তব্য দেননি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au