এশিয়ার বাজারে হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যার পেছনে প্রধান…
মেলবোর্ন, ২৪ সেপ্টেম্বর- অস্ট্রেলিয়ায় নেপালি অভিবাসীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। নতুন প্রজন্মের সন্তানদের লালনপালন ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে অনেকেই ভরসা করছেন বাবা–মা বা শ্বশুর–শাশুড়ির ওপর। শিশু দেখাশোনা থেকে শুরু করে ভাষা ও ঐতিহ্য শেখানো পর্যন্ত এসব দায়িত্ব ভাগ করে নিচ্ছেন পরিবারের প্রবীণরা।
২০১৬ সালে নেপাল থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন সুবোধ গৌড়েল ও তাঁর স্ত্রী প্রতীষ্ঠা। ব্যস্ত কর্মজীবনের পাশাপাশি সংসার সামলানো তাঁদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল। প্রথম সন্তানের আগমনের খবর পেয়ে সুবোধের মাথায় প্রথমেই আসে শ্বশুর-শাশুড়ির ভিসার বিষয়টি।
তিনি বলেন,
“প্রথমেই আমার মাথায় এলো—আমাকে আমার শ্বশুর-শাশুড়ির ভিসা আবেদনের প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। আমরা ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘আমরা কি একটা চিঠি পেতে পারি, যাতে এটা সহায়ক নথি হিসেবে যুক্ত করা যায়?’”
প্রায় আট মাস ধরে প্রতীষ্ঠার বাবা-মা তাঁদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন। নাতনিকে দেখাশোনার পাশাপাশি তাঁরা নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও ভাগ করে নিচ্ছেন।
সুবোধ বলেন,
“তাঁরা যদি এখানে না থাকতেন, আমরা সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়তাম। বিশেষ করে অভিবাসী সমাজের মানুষ হিসেবে যখন রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাওয়া যায় না, তখন তাঁদের উপস্থিতি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।”
প্রতীষ্ঠার বাবা ভারত মানিগৌতম বলেন, নেপালে সাধারণত তিন প্রজন্ম একসঙ্গে একই বাড়িতে থাকেন।
তিনি বলেন,
“আমরা এখানে এসে খুব খুশি, কারণ আমরা একসঙ্গে আছি। এটা দারুণ একটি দেশ, আমরা এখানে সুখী। আমরা আমাদের ভাষা ভাগ করে নিচ্ছি… আমাদের সংস্কৃতি নাতনির কাছে পৌঁছে দিচ্ছি।”
বর্তমানে প্রায় ২ লাখ নেপালে জন্ম নেওয়া মানুষ অস্ট্রেলিয়ায় বাস করছেন, যেখানে এক দশক আগে সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৩ হাজার। অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতে (ACT) ইংরেজি ও ম্যান্ডারিনের পর নেপালি এখন ঘরে ব্যবহৃত তৃতীয় সর্বাধিক ভাষা।
স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বন্ধন রক্ষার জন্য ক্যানবেরার নেপালি সংগঠনগুলো নিয়মিত অনুষ্ঠান আয়োজন করে। স্থানীয় নেপালি সম্প্রচারক প্রদীপ তিমালসিনা বলেন,
“তাঁরা একত্রিত হন, একে অপরের সঙ্গে মেশেন এবং অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন—নিয়মকানুন, যে সব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, সেসব নিয়েও কথা বলেন। তাঁরা এখানে এসে দেখেন, শিখেন এবং সেই অভিজ্ঞতা দেশে ফেরত নিয়ে যান।”
এভাবে একত্রিত হওয়ার মাধ্যমে প্রবাসী নেপালিরা নিজেদের দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন। সুবোধ বলেন,
“নেপালে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি চলছে, আর এখন জেন জি প্রজন্ম সাহস করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছে। আমি মনে করি, এটা নেপালকে নতুন পথে এগোতে সাহায্য করবে।”
কয়েক মাসের মধ্যে গৌড়েল দম্পতির শ্বশুর-শাশুড়ি বদলে যাওয়া নেপালে ফিরে যাবেন। এরপর সুবোধের বাবা-মা আসবেন অস্ট্রেলিয়ায়।
সুবোধ বলেন,
“আমরা ভাগ্যবান যে সহজেই তাঁদের এখানে আনতে পেরেছি। তবে সবার জন্য একই সুযোগ থাকে না। আমি তাঁদের উপস্থিতির জন্য ভীষণ কৃতজ্ঞ।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au