প্রথম ভাষণেই জাতিসংঘের তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ২৪ সেপ্টেম্বর- দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রথম ভাষণেই সংস্থাটিকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার বক্তব্যে তিনি জাতিসংঘকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ, অভিবাসনকে উৎসাহিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার প্রচেষ্টাকে ‘প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
জাতিসংঘ সদরদপ্তরে প্রবেশের সময় ট্রাম্প ও স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প চলন্ত সিঁড়ির ত্রুটি এবং ভাঙা টেলিপ্রম্পটার নিয়ে সমস্যায় পড়েন। ভাষণে তিনি সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে জাতিসংঘের দুর্বলতার তুলনা করে বলেন, “জাতিসংঘের অবস্থা এখন বন্ধ হওয়া এসকেলেটর বা ভাঙা টেলিপ্রম্পটারের মতোই।”
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, অভিবাসীদের নানা সুবিধা দিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর কার্যত “আক্রমণ” চালাচ্ছে জাতিসংঘ। তার দাবি, এভাবে দেশগুলো ধ্বংসের পথে যাচ্ছে। ইউরোপকে সতর্ক করে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে সঠিক থাকার ঝুঁকি নিতে গিয়ে তারা বিপদ ডেকে আনছে। এমনকি লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র সাদিক খানের বিরুদ্ধেও তিনি আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন।
জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ট্রাম্প বলেন, এটি “বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতারণা।” তার মতে, জাতিসংঘ কেবল শক্ত ভাষায় চিঠি পাঠায়, কিন্তু তা দিয়ে যুদ্ধ থামানো যায় না।
নিজের নির্ধারিত ১৫ মিনিট ছাড়িয়ে ৫৬ মিনিট ধরে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, অন্তত সাতটি যুদ্ধ তিনি বন্ধ করেছেন। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গাজা সংঘাতের সমাধান আনতে ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করেন। ইউক্রেন যুদ্ধকে তিনি “সবচেয়ে সহজে সমাধানযোগ্য” বলে উল্লেখ করেন।
গাজা যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ থামাতেই হবে এবং জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে। তবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া কয়েকটি প্রভাবশালী দেশের সিদ্ধান্তকে তিনি “হামাসের নৃশংসতার পুরস্কার” বলে আখ্যা দেন।
রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ না করায় ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করলেও ট্রাম্প তুলনামূলক নরম ভাষায় রাশিয়া প্রসঙ্গ তোলেন। একইসঙ্গে তিনি অনির্ধারিত কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত দেন।
ভাষণের শেষ দিকে ট্রাম্প বলেন, “আপনাদের সীমান্ত এবং প্রচলিত জ্বালানির উৎস শক্তিশালী করতে হবে, যদি আবার মহান হতে চান।”
সুত্রঃ রয়টার্স ও বিবিসি