মেলবোর্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর- অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে যুক্তরাজ্যে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে ডিজিটাল আইডি। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ পরিকল্পনার ঘোষণা দেন।
সরকারের দাবি, ডিজিটাল আইডি চালু হলে অবৈধভাবে থাকা ব্যক্তিরা আর কাজের সুযোগ পাবেন না। এতে স্বাভাবিকভাবেই অবৈধ অভিবাসন হ্রাস পাবে। এই আইডিতে নাগরিক ও বাসিন্দাদের নাম, জন্মতারিখ, ছবি, জাতীয়তা ও বসবাসের তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মোবাইলে সংরক্ষিত এই আইডি সাধারণ চলাফেরায় ব্যবহার করতে হবে না, তবে চাকরিতে যোগদানের সময় এটি বাধ্যতামূলক হবে। এছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স, শিশু ভাতা, কর রেকর্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে এটি ব্যবহার করা যাবে।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, “ডিজিটাল আইডি যুক্তরাজ্যের জন্য বিশাল সুযোগ। এটি সীমান্তকে নিরাপদ করবে এবং নাগরিকদের জীবনকে সহজ করবে।”
তবে সরকারের ঘোষণার পরই রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক একে ‘হতাশার নাটক’ আখ্যা দিয়ে বিরোধিতা করেছেন। লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা আশঙ্কা করছে, এতে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রতিদিন প্রকাশের ঝুঁকি বাড়বে। রিফর্ম ইউকে পার্টি একে ‘প্রতারণামূলক কৌশল’ বলে দাবি করেছে এবং জানিয়েছে, এটি অবৈধ অভিবাসন রোধে কার্যকর হবে না।
উল্লেখ্য, জাতীয় আইডি কার্ডের বিরোধিতা যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আইডি কার্ড বাতিল করা হয়েছিল। ২০০০-এর দশকে টনি ব্লেয়ারের সরকার এমন উদ্যোগ নিলেও তীব্র বিরোধিতায় তা বাস্তবায়িত হয়নি।
এবারও বিতর্ক তৈরি হলেও সাম্প্রতিক জরিপে বেশিরভাগ নাগরিক এ পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে ইতোমধ্যেই প্রায় পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ অনলাইনে একটি পিটিশনে বাধ্যতামূলক আইডির বিপক্ষে স্বাক্ষর করেছেন। স্টারমারের লেবার সরকার মনে করছে, জনমতের চাপ এবং অভিবাসন ইস্যুতে রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে এবার ডিজিটাল আইডি বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে।