জ্বালানি সংকটে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়াল শ্রীলঙ্কা
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এখন থেকে প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা…
মেলবোর্ন, ৩০ সেপ্টেম্বর- দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এখন গভীর অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। নিজের মামলার আইনজীবীর ফি দিতে পারছেন না তিনি। ইতিমধ্যে নিজের ল চেম্বারের সব বই বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন—এমন দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবী মোরশেদ হোসেন।
সোমবার সকালে দুদকের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের শুনানি থাকায় তাঁকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে আনা হয়। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে নীল রঙের প্রিজন ভ্যান আদালত চত্বরে পৌঁছালে দুই পুলিশ সদস্য তাঁকে নামিয়ে হাজতখানায় নিয়ে যান। হাজতখানার ভেতরে একটি ছোট কক্ষে তাঁকে বসানো হয়, যেখানে মেঝেতে বিছানো মাদুরে তিনি নীরবে বসে ছিলেন।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁকে হাজতখানা থেকে বের করে আদালত কক্ষে তোলা হয়। তখন দেখা যায়, তাঁর দুই হাত পেছনে হাতকড়া পরানো, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, মাথায় পুলিশের হেলমেট। ধীরগতিতে তাঁকে আদালতের দ্বিতীয় তলায় নেওয়া হয়। কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর পর পুলিশ তাঁর হেলমেট, জ্যাকেট ও হাতকড়া খুলে দেয়।
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি আদালতের বিচারক ও উপস্থিত আইনজীবীদের দিকে বারবার তাকাচ্ছিলেন, কিন্তু কোনো কথা বলেননি। কিছুক্ষণ পর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) তরিকুল ইসলাম আদালতে বলেন, “মাননীয় আদালত, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। দুদকের পক্ষ থেকে এ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করছি।”
আদালতে উপস্থিত অবস্থায় শামসুদ্দিন চৌধুরী কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি, কথা বলেননি। তাঁর পক্ষে তখন কোনো আইনজীবীও যুক্তিতর্কে অংশ নেননি। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এরপর আবারও তাঁর হাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরানো হয়, মাথায় হেলমেট ও বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে হাজতখানায় ফেরত পাঠানো হয়।
হাজতখানায় ফেরার পর দুপুর ১২টার দিকে তাঁকে মাদুরে বসে থাকতে দেখা যায়। তখন তিনি কারাগার থেকে আনা একটি কলা, কিছু পাউরুটি ও দুটি খেজুর খান। ওই সময় হাজতখানার একই কক্ষে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। তিনজনই একসঙ্গে নীরবে সেই সামান্য খাবার খান।
বেলা দুইটার দিকে প্রথমে শামসুদ্দিন চৌধুরীকে, পরে আবদুস সালাম মুর্শেদী ও দিলীপ আগরওয়ালাকে আদালতের বারান্দায় আনা হয়। তাঁদের সবার হাত পেছনে বাঁধা, মাথা নিচু। এরপর তিনজনকেই একে একে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। দেখা যায়, ভ্যানের ভেতরে একটি লোহার বেঞ্চে পাশাপাশি বসে আছেন তাঁরা তিনজন। বেলা আড়াইটায় ভ্যানটি হুইসেল বাজিয়ে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের দিকে রওনা হয়।
আদালত চত্বরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আইনজীবী মোরশেদ হোসেন বলেন, “বিচারপতি মানিক এখন চরম আর্থিক সংকটে আছেন। মামলার খরচ চালানোর মতো সামর্থ্য নেই তাঁর। নিজের ল চেম্বারের সব বই বিক্রি করে দিয়েছেন। এমনকি আমার ফি দেওয়ারও ক্ষমতা তাঁর নেই।”
তিনি আরও বলেন, “এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি কারাগারে আছেন। একের পর এক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। এটা তাঁর জন্য মানসিকভাবে অত্যন্ত কষ্টকর।”
কখনও আদালতে নিজের রায়, বক্তব্য ও মতামত নিয়ে আলোচনায় থাকা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী এখন একেবারে অন্য বাস্তবতায়। তাঁর মুখে কোনো কথা নেই, চোখে ক্লান্তি, মাথা নিচু করে নীরবে আদালত থেকে প্রিজন ভ্যানে ফিরে যাচ্ছেন তিনি।
সুত্রঃ প্রথম আলো
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au