জ্বালানি সংকটে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়াল শ্রীলঙ্কা
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এখন থেকে প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা…
মেলবোর্ন, ৩০ সেপ্টেম্বর- বার্সেলোনা থেকে এই মাসের শুরুতে প্রায় ৫১টি জাহাজ নিয়ে গাজার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে গ্লোবাল সুমুদ (Global Sumud) ফ্লোটিলা। মূল লক্ষ্য—ইসরায়েলের সমুদ্র অবরোধ ভাঙে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। তবে শুরু থেকেই বহরটি একের পর এক বাঁধার মুখে পড়ছে।
আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত সক্রিয় সমাজকর্মী, জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আইনজীবি, চিকিৎসক, ধর্মীয় নেতা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এই মিশনে যোগ দিয়েছেন। আয়োজকদের বক্তব্য—তারা শুধু ত্রাণ পৌঁছে দিতে চাইছেন এবং ফিলিস্তিনি মানুষের কণ্ঠকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই তাদের উদ্দেশ্য।
তবে গত অবস্থান থেকে জানা যায়—ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বহরের ওপর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে: গাজার তীরে পৌঁছালে অংশগ্রহণকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে। বহরটি নিয়মিতভাবে ড্রোন হামলার শিকার হচ্ছেও আছে।
আয়োজকদের বিবরণ অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর বহরের প্রধান নৌকা ‘ফ্যামিলি’ তিউনিসিয়ার উপকূলে ড্রোন হামলায় আক্রান্ত হয়; নৌকায় আগুন ধরে গেলেও কোনো আনুমানিক হতাহত হয়নি। একদিন পর, ১০ সেপ্টেম্বর আয়োজকরা জানিয়েছিলেন, বহরের বিভিন্ন জাহাজে মোট ১৩ বার হামলা চালানো হয়েছে—তাতে অন্তত তিনটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পোল্যান্ডের সংসদ সদস্য ফ্রানেক স্টারচেভস্কও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ড্রোন থেকে অজ্ঞাত বস্তু নিক্ষেপ, যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত সৃষ্টি ও উচ্চস্বরে সংগীত বাজিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বহরের একজন ব্রাজিলীয় অ্যাক্টিভিস্ট থিয়াগো আভিলা পরে দাবি করেন, জাহাজগুলোতে ড্রোন ব্যবহার করে ফ্ল্যাশ-ব্যাং, স্টান গ্রেনেড এবং কেমিক্যাল ছোঁড়া হয়েছে; পরিস্থিতি ক্রমশ আক্রমণাত্মক রূপ নিচ্ছে। আয়োজকরা আরও জানান, বহুবার তাদের উপরে অজ্ঞাত সামরিক বিমানও উড়ে গেছে।
ইসরায়েল এ পর্যন্ত এসব অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—ইসরায়েল স্পষ্ট করে দিয়েছে, গাজার পথে থাকা এই ত্রাণবাহী বহরকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না এবং তেলআবিবের দাবি, বহরটি হামাস-সম্পৃক্ত এবং হামাসকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে এটি পরিচালিত হচ্ছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে—যদি বহরের যাত্রীদের প্রকৃত উদ্দেশ্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়, তবে তাদের জাহাজ আশকেলন বন্দরে ভিড়তে হবে; সেখান থেকে সমন্বিতভাবে সাহায্য পাঠানো হবে। অন্যদিকে, ফ্লোটিলা ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছে—তারা অবরোধ ভেঙে সরাসরি গাজায় পৌঁছাতে চান। তাদের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এই মিশনটি সাধারণ মানুষ, মানবাধিকারকর্মী, চিকিৎসক, শিল্পী, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী ও নাবিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ।
স্পেন ও ইতালি অচিরেই ফ্লোটিলা সমর্থনে তাদের রণতরী প্রেরণ করলেও আয়োজকরা মনে করেন—ইসরায়েলের মনস্তাত্ত্বিক কৌশল ক্রুরদের নিরুৎসাহিত করবে না। তারা বলছে, সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছেন এবং ‘গাজা এখন আর শুধু ফিলিস্তিনিদের বিষয় নয়—এটি বৈশ্বিক বিবেকের প্রশ্ন।’ আয়োজকরা জোর দিয়ে জানিয়েছেন, “আমাদের গন্তব্য গাজা; আমরা থামব না।”
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au