জ্বালানি সংকটে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়াল শ্রীলঙ্কা
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বড় ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এখন থেকে প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা…
মেলবোর্ন, ৩০ সেপ্টেম্বর- গাজা যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি শুরু হবে এবং ইসরায়েলি সেনারা নির্ধারিত সীমারেখা পর্যন্ত প্রত্যাহার করবে। একইসঙ্গে সব ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং ধাপে ধাপে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি ও গাজায় বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সহায়তা প্রবেশ করানো হবে।
পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে, গাজা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে পরিচালিত হবে, যেখানে ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। এ প্রক্রিয়া তদারকি করবে নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’, যার নেতৃত্বে থাকবেন স্বয়ং ট্রাম্প। এই সংস্থায় যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক নেতারাও থাকবেন।
ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রস্তাবটিকে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে গাজায় যুদ্ধ এখনো থামেনি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ এক দিনে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী অন্তত ১৬০টি স্থানে হামলা চালিয়েছে। গাজা শহর এখনো সামরিক অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা যুদ্ধ-পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয়। বরং এটি একটি কাঠামো, যা ভবিষ্যতের আলোচনায় ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এতে জিম্মি ও বন্দি বিনিময়, সেনা প্রত্যাহার এবং গাজার নিরাপত্তা ও শাসন কাঠামো তৈরির প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প পরিকল্পনাটিকে “অল-ইন-ওয়ান ডিল” বলে উল্লেখ করেছেন। এতে তিনি নিজেই ‘বোর্ড অব পিস’-এর চেয়ারম্যান হবেন, যা কার্যত গাজার গভর্নরের মতো ভূমিকা রাখবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই কাঠামো ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যা আরব ও ইউরোপীয় দেশগুলোর চাহিদার কাছাকাছি। বিশেষ করে আগের বিতর্কিত “গাজা রিভিয়েরা পরিকল্পনা”-এর মতো উচ্ছেদের ধারণা এবার বাদ দেওয়া হয়েছে।
তবে সমালোচকেরা বলছেন, প্রস্তাবের অনেক অংশই অস্পষ্ট। বিশেষ করে যেসব ইস্যুতে হামাস ও ইসরায়েলের মতবিরোধ তীব্র—সেসব জায়গায় মাত্র একটি বাক্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। ফলে পরিকল্পনাটি মূলত যুদ্ধের অবসান ঘটাতে নয়, বরং নতুন করে আলোচনার টেবিলে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করতে সহায়ক হতে পারে।
এখন দৃষ্টি হামাসের দিকে—কাতারসহ আরব দেশগুলোর চাপের মুখে তারা প্রস্তাবটি গ্রহণ করবে কি না, সেটিই নির্ধারণ করবে গাজার ভবিষ্যৎ আলোচনার গতি।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au