ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে ৩০০ জন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ৫ অক্টোবর- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে ৩০০ জন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের আপত্তি সত্ত্বেও তিনি এই নির্দেশ দেন। দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি এমন পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেডারেল কর্মকর্তাদের ও সম্পদের সুরক্ষায় ৩০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর বিশৃঙ্খলা দেখে চুপ করে থাকবেন না।”
এর আগে শনিবার সকালে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর জে বি প্রিৎসকার জানান, মার্কিন বর্ডার পেট্রোল সদস্যদের গুলিতে শিকাগোতে এক সশস্ত্র নারী আহত হওয়ার পর ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নেন।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) জানিয়েছে, ওই ঘটনায় কোনো কর্মকর্তা গুরুতর আহত হননি। ঘটনাস্থলে একটি দল, যার মধ্যে ওই নারীও ছিলেন, অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্থার গাড়িতে ধাক্কা দেয়। আহত নারী নিজেই গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যান। তাঁর অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
শনিবার প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় আইসিই সদস্যরা পিপার স্প্রে ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তামন্ত্রী ক্রিস্টি নোম জানান, তিনি শিকাগোর ব্রাইটন পার্ক এলাকায় অতিরিক্ত বিশেষ অভিযান দল পাঠাচ্ছেন।
গভর্নর প্রিৎসকার বলেন, সকালে পেন্টাগন থেকে তাঁরা বার্তা পান যে, শিগগিরই গার্ড সদস্যদের ডাকা হবে। তিনি বলেন, “আজ সকালে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ বিভাগ আমাকে এক ধরনের আল্টিমেটাম দিয়েছে—আমরা নিজেরাই সৈন্য ডাকব, না হলে তারা ডাকবে। এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের পরিপন্থী।”
গভর্নরের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, তারা মোতায়েনের সময় ও স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানে না। হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনও কোনো মন্তব্য করেনি।
শিকাগো এলাকায় ফেডারেল উপস্থিতির বিরুদ্ধে একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। শুক্রবার শহরতলি ব্রডভিউতে আইসিই কার্যালয়ের সামনে শত শত বিক্ষোভকারীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা আটক ব্যক্তিদের বহনকারী আইসিই গাড়ি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এজেন্টরা বলপ্রয়োগ, কেমিক্যাল গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে তাদের সরিয়ে দেয়।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটন ডিসি ও পোর্টল্যান্ডসহ অন্যান্য ডেমোক্র্যাটিক নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোতেও একই রকম কঠোর পুলিশি তৎপরতা চলছে।
এর আগে ট্রাম্প লস অ্যাঞ্জেলেসে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছিলেন এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে সৈন্য পাঠান। টেনেসির গার্ড সদস্যদেরও মেমফিসে পুলিশের সহায়তায় মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম লস অ্যাঞ্জেলেসে মোতায়েন ঠেকাতে আদালতে মামলা করেন এবং অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা পান। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে এবং মার্কিন নবম সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি প্যানেল জানিয়েছে, সরকারের পক্ষে রায় যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
প্রিৎসকার বলেন, “এই পদক্ষেপ আসলে এক ধরনের রাজনৈতিক প্রদর্শনী, যা আমাদের ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের পরিবার ও নিয়মিত কাজ থেকে টেনে নিচ্ছে। ট্রাম্পের জন্য এটি কখনও নিরাপত্তার বিষয় ছিল না, এটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়।”
তিনি আরও জানান, রাজ্য, জেলা ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতিমধ্যে আইসিই কার্যালয়ের নিরাপত্তায় সমন্বয় করে কাজ করছে। শুক্রবার ওই এলাকায় ১৩ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ডে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন এক ফেডারেল বিচারক।
গত মাসে ট্রাম্প শহরটিতে সৈন্য পাঠানোর ঘোষণা দেন এবং একে “যুদ্ধবিধ্বস্ত” বলে অভিহিত করেন। তবে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের দাবি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ছবিগুলো মূলত ২০২০ সালের, যখন জর্জ ফ্লয়েড হত্যার পর পোর্টল্যান্ডে বিক্ষোভ চলছিল।
মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক কারিন ইমারগাট শনিবার রাজ্য ও সিটি প্রশাসনের করা মামলার শুনানিতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছিল, তারা ওরেগনের ২০০ ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে ৬০ দিনের জন্য ফেডারেল নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে, যাতে বিক্ষোভপ্রবণ এলাকাগুলোর ফেডারেল সম্পদ রক্ষা করা যায়। তবে ওরেগন কর্তৃপক্ষ এই বর্ণনাকে “সম্পূর্ণ হাস্যকর” বলে মন্তব্য করেছে।
সম্প্রতি শহরটির আইসিই ভবনের সামনে প্রায় প্রতিরাতে অল্পসংখ্যক মানুষ বিক্ষোভ করছিলেন, যা মোতায়েন ঘোষণার পরও শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল।
সুত্রঃ আল জাজিরা