জয়পুরের একটি হাসপাতালে আগুনে পুড়ে অন্তত ৮ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ অক্টোবর- ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় অন্ধ্রপ্রদেশে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৮ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার গভীর রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার সময় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন প্রায় ৭০ জন রোগী। অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীর তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে বহু রোগীর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ভিজয়ওয়াড়া শহরের এলফা কেয়ার হাসপাতালে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় থাকা আইসিইউ ইউনিটের একটি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, আর তীব্র ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ে রোগী ও কর্মীরা।
অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর কর্মকর্তা রমেশ কুমার জানিয়েছেন, “আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় হাসপাতালের পুরো আইসিইউ আগুনে জ্বলছিল। ৮ জন রোগীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে, আরও কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে কাছের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর হাসপাতালের ভেতরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ ধোঁয়া এড়িয়ে দেয়াল বেয়ে নিচে নামতে গিয়ে আহত হন। উদ্ধারকাজে অন্তত ১৫টি দমকল ইউনিট অংশ নেয়।
অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারকে প্রতিটি পরিবারকে ১০ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও অগ্রহণযোগ্য। হাসপাতাল প্রশাসনের অবহেলা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজ্য সরকারের এক তদন্তদল ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জানা গেছে, হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কার্যকর ছিল না এবং জরুরি নির্গমন পথও আংশিকভাবে বন্ধ ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন না হওয়াই এ ধরনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া এক নার্স বলেন, “আমরা হঠাৎ ধোঁয়ায় কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। রোগীদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে অনেককে বের করে আনা সম্ভব হয়নি।”
ভারতে হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন নয়। বিগত কয়েক বছরে কলকাতা, মুম্বাই ও দিল্লিতেও একাধিক হাসপাতালে একই ধরনের দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানি ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কঠোর নিরাপত্তা মান বজায় না রাখলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে।
বর্তমানে আহতদের স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এলাকাটি নিরাপত্তা জোন ঘোষণা করা হয়েছে।