এনসিপি নেতা সারজিস আলম। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ অক্টোবর- জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, “কিছু উপদেষ্টার আচরণে মনে হচ্ছে, তাঁরা এখন শুধু দায়সারা দায়িত্ব পালন করে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কোনোভাবে ‘এক্সিট’ নিতে চান।”
মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এনসিপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সারজিস আলম বলেন, “এই দায়সারা দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা নিয়ে অভ্যুত্থান–পরবর্তী কোনো সরকার কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। তাঁরা এত শহীদের রক্ত ও ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন। যদি এখন তাঁরা জীবনের সামান্য হুমকির ভয় করেন, তাহলে ওই দায়িত্ব তাঁদের নেওয়া উচিত ছিল না।”
তিনি বলেন, “যাঁরা দেশের ত্যাগ ও রক্তের ইতিহাস ভুলে গিয়ে এখন শুধুই নিজেদের সুরক্ষার চিন্তা করছেন, গুটি কয়েক মানুষ যদি নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে কারা পরের সরকারে থাকবে সেটা ভেবে দেশের ভবিষ্যৎ ঠিক করতে চান, তাহলে তাঁরা দেশের মানুষের সামনে মুখ দেখাতে পারবেন না। পৃথিবীতে ‘সেফ এক্সিট’ বলতে একটাই জিনিস আছে—মৃত্যু। এর বাইরে কোনো সেফ এক্সিট নেই। আপনি পৃথিবীর যেখানেই যান না কেন, বাংলাদেশের মানুষ আপনাকে খুঁজে নেবে—সোশ্যাল মিডিয়ায় হোক বা সামনাসামনি।”
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, “নির্বাচন কমিশন এখন জাতীয় লীগ নামে একটি দলকে নিবন্ধন দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। অথচ দলের অস্তিত্ব বলতে টয়লেটের পাশে একটি ছোট ঘর ছাড়া কিছুই নেই। কোনো দলকে নিবন্ধন দিতে হলে আগের মতো কাগুজে যাচাই নয়, সবকিছু খতিয়ে দেখতে হবে। যদি এটা আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের কোনো চেষ্টা হয়, জনগণ ও এনসিপি তা মেনে নেবে না।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের ভালো মানুষ যদি একত্র হয়ে নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করতে চায়, আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগের যেকোনো সংস্করণ—যেভাবেই আসুক না কেন—অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশে তা কোনোভাবেই প্রাসঙ্গিক নয়। এনসিপি তা কখনো মেনে নেবে না।”
আগামী জাতীয় নির্বাচনে এনসিপি ‘শাপলা’ প্রতীক নিয়ে অংশ নেবে জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, “শাপলা প্রতীকে আইনগত কোনো বাধা নেই। কিন্তু নির্বাচন কমিশন স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হয়েও অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে স্বেচ্ছাচারিতার মতো আচরণ করছে, হয়তো কারও চাপে পড়েও করছে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করি, কমিশন স্বাধীনতা ও আস্থার জায়গা ধরে রাখবে।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, “তিনি বলেছেন, যেই ভাইকে দেশে রেখে গিয়েছিলেন, তাঁকে আর দেখতে পারবেন না। তাঁর শৈশবের স্মৃতিমাখা ঘর মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে আমাদের সহমর্মিতা আছে। আমরা চাই, আগামীর বাংলাদেশে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটুক। বিএনপির বহু নেতা–কর্মীর সঙ্গে এমন অন্যায় আচরণ করা হয়েছে, যার দায় আওয়ামী লীগের। তাই স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের দোসররা যেন অর্থ বা সুবিধার বিনিময়ে কোনো আশ্রয়–প্রশ্রয় না পায়, সেটাও আমরা দেখতে চাই।”
সমন্বয় সভায় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমনসহ নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলার নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সুত্রঃ প্রথম আলো