বিশ্ব

অস্বাভাবিক আচরণ করছে পাখিরা—বিজ্ঞানীদের সতর্কতা

  • 2:23 pm - October 08, 2025
  • পঠিত হয়েছে:২০ বার
ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন,৮ অক্টোবর- বিশ্বজুড়ে আজকাল পাখিদের আচরণে অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এই অস্বাভাবিকতা শুধু তাদের জন্য নয়, মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্যও ভয়ংকর সংকেত বহন করছে বলে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পাখিদের অভিবাসনের প্রাকৃতিক ধারা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন ইকোলজিস্ট অ্যান্ড্রু ফার্নসওর্থ বলেছেন, ‘পাখিদের অবস্থান, আবহাওয়া এবং জলবায়ুর মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সেই ভারসাম্যটাই এখন ভেঙে যাচ্ছে।’ তাঁর মতে, এই প্রভাব শুধু কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে নয়; বরং বিশ্বজুড়ে পাখিদের বাস্তুতন্ত্রে একধরনের ‘ধ্বংসাত্মক বাটারফ্লা অস্বাভাবিক আচরণ করছে পাখিরা: বিজ্ঞানীদের সতর্কতা, মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্যও বিপদ সংকেত

বিশ্বজুড়ে পাখিদের আচরণে দেখা যাচ্ছে এক অদ্ভুত পরিবর্তন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলা অভিবাসনের নিয়ম, মৌসুমভিত্তিক উড়াল ও প্রজননের ধারা যেন হঠাৎই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাব শুধু পাখিদের টিকে থাকা নয়—মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্যও ভয়ংকর বার্তা বহন করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন ইকোলজিস্ট অ্যান্ড্রু ফার্নসওর্থ বলেন, “পাখিদের অবস্থান, আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সেই প্রাকৃতিক ভারসাম্যটাই এখন ভেঙে যাচ্ছে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই অস্থিরতা কেবল নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চল নয়, বরং পুরো বিশ্বের পাখি–বাস্তুতন্ত্রে একধরনের “ধ্বংসাত্মক বাটারফ্লাই এফেক্ট” তৈরি করছে।

বিংহ্যামটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গেছে, প্রতিবছর লক্ষাধিক পাখি নির্দিষ্ট পথ ধরে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দেয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মৌসুমি তাপমাত্রা ও সময়ের সমন্বয় নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে অনেক পাখি এখন গন্তব্যে পৌঁছায় অনেক আগেই—যখন খাবার বা প্রজননের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি—অথবা অনেক দেরিতে, যখন সেই পরিবেশ হারিয়ে গেছে।

গবেষকেরা বলেছেন, এটি এমন এক যাত্রার মতো, “যেখানে দীর্ঘ পথের শেষে দেখা যায়, পথে সব রেস্তোরাঁ ও হোটেল বন্ধ।”

ফলে অনেক পাখি অনাহারে মারা যাচ্ছে কিংবা সঙ্গী খুঁজে পাচ্ছে না। বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের আচরণবিজ্ঞানী জাস্টিন ম্যান বলেন, “পাখিরা এখন নতুন জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছে; কারণ, পুরোনো বাসস্থান আর তাদের প্রয়োজনের সঙ্গে খাপ খাচ্ছে না।”

প্রচণ্ড ঝড়, দীর্ঘস্থায়ী ঘূর্ণিঝড় মৌসুম এবং হঠাৎ বন্যা—এসবই এখন পাখিদের অভিবাসনে বড় বাধা। বিশেষ করে মেক্সিকো উপসাগর অতিক্রমের সময় বহু পাখি প্রবল ঝড়ে মারা পড়ছে।

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৭০ সালের পর থেকে পৃথিবী থেকে প্রায় ৩০০ কোটি পাখি হারিয়ে গেছে।
আর ন্যাশনাল অডুবন সোসাইটির হিসেবে, আগামী ৫০ বছরে উত্তর আমেরিকার আরও ৩৮৯ প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিশেষত, রেড নট, সোয়েনসন’স থ্রাশ ও ব্ল্যাক-থ্রোটেড ব্লু ওয়ার্বলার প্রজাতির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। উদাহরণ হিসেবে, আর্কটিক থেকে দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত যাত্রাকারী রেড নট পাখির সংখ্যা ইতিমধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

পাখিরা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যের অংশ নয়—বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যের জন্যও অপরিহার্য। পৃথিবীর প্রায় ৫ শতাংশ উদ্ভিদ পরাগায়নের জন্য পাখির ওপর নির্ভরশীল। পাখির সংখ্যা কমে গেলে কৃষি উৎপাদনও ব্যাহত হবে, যা খাদ্য নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

কফি, চকলেট ও ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত বহু উদ্ভিদ এই পরাগায়নের ওপর নির্ভর করে। পাখির সংখ্যা হ্রাস মানে এই মূল্যবান ফসলগুলোর ভবিষ্যৎও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাখিদের সাহায্য করা এখন সময়ের দাবি।
তাঁরা বলেছেন,রাতে অপ্রয়োজনীয় আলো নিভিয়ে রাখা,খোলা জায়গায় পাখিদের জন্য খাদ্য ও পানি সরবরাহ করা,এবং স্থানীয় গাছপালা সংরক্ষণ করা—
এই সহজ পদক্ষেপগুলো পাখিদের অভিবাসন ও বেঁচে থাকার লড়াইয়ে বড় সহায়তা দিতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, পাখিদের এই অস্বাভাবিক আচরণ পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের এক গভীর বিপর্যয়ের পূর্বাভাস।
তাঁরা সতর্ক করেছেন—“পাখিরা প্রকৃতির বার্তাবাহক। তাদের বিপদ মানেই আমাদের ভবিষ্যৎ বিপদ।”

জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকেত যদি এখনই উপেক্ষা করা হয়, তবে এর পরিণতি শুধু আকাশে নয়—পৃথিবীর প্রতিটি জীবের ওপরই পড়বে।

ই এফেক্ট’ তৈরি করছে।

বিংহ্যামটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, অভিবাসনের সময় প্রতিবছর বহু প্রজাতির পাখি হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দেয় নির্দিষ্ট পথ ধরে। পথে তাদের খাবার সংগ্রহ বা বিশ্রামের জন্যও রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু এলাকা। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সময় ও তাপমাত্রার মিল না থাকায় অনেক পাখি এখন গন্তব্যে পৌঁছায় খুব তাড়াতাড়ি বা অনেক দেরিতে। ফলে খাবার বা প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশ তারা পায় না। গবেষকেরা একে তুলনা করেছেন এমন এক যাত্রার সঙ্গে, যেখানে দীর্ঘ ভ্রমণে রওনা হয়ে দেখা যায়, পথে সব রেস্তোরাঁ ও হোটেল বন্ধ।

ফলে অনেক পাখি অনাহারে মারা যাচ্ছে কিংবা সঙ্গী খুঁজে পাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের আচরণবিজ্ঞানী জাস্টিন ম্যান বলেন, ‘পাখিরা এখন নতুন জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছে; কারণ, পুরোনো বাসস্থান আর তাদের প্রয়োজনের সঙ্গে খাপ খায় না।’

এ ছাড়া অতিরিক্ত ঝড়, দীর্ঘায়িত ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম ও বন্যা—সবকিছুই পাখিদের আন্তর্মহাদেশীয় যাত্রায় বাধা সৃষ্টি করছে; বিশেষ করে মেক্সিকো উপসাগর অতিক্রমের সময় অনেক পাখি এখন প্রবল ঝড়ের কবলে পড়ছে।

ইতিমধ্যে পৃথিবীর পাখিজগৎ চরম সংকটে রয়েছে। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৭০ সালের পর থেকে প্রায় ৩০০ কোটি পাখি পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে। ন্যাশনাল অডুবন সোসাইটির হিসাব বলছে, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে উত্তর আমেরিকার আরও ৩৮৯ প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হতে পারে।

পাখিরা শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যেরও অপরিহার্য অংশ। পৃথিবীর প্রায় ৫ শতাংশ উদ্ভিদ পরাগায়নের জন্য সরাসরি পাখির ওপর নির্ভরশীল। পাখির সংখ্যা কমে গেলে খাদ্য উৎপাদনও হ্রাস পাবে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও পরিবেশে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। কফি, চকলেট বা ওষুধ তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত অনেক ফসলই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

উত্তর আমেরিকা থেকে ক্যারিবীয় অঞ্চলে অভিবাসনের পথে খাদ্যাভাবের কারণে রেড-নট, সোয়েনসন’স থ্রাশ ও ‘ব্ল্যাক-থ্রোটেড ব্লু ওয়ার্বলার’-এর মতো প্রজাতিগুলোর সংখ্যা দ্রুত কমছে। উদাহরণস্বরূপ, আর্কটিক থেকে দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত যাত্রাকারী রেড নট পাখির সংখ্যা ইতিমধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ কমেছে।

এই অবস্থায় বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিয়েছেন, চাইলেই কিছু সহজ পদক্ষেপে তাদের সাহায্য করতে পারি। রাতে বাড়ির অপ্রয়োজনীয় আলো নিভিয়ে রাখা এবং খোলা জায়গায় পাখির খাদ্য ও পানি সরবরাহ করা তাদের এই কঠিন অভিযাত্রায় কিছুটা সহায়তা দিতে পারে।

 

এই শাখার আরও খবর

ইরানে ‘যেকোনো সময়’ হামলার আশঙ্কা, সতর্ক করলেন মার্কিন সিনেটর

মেলবোর্ন, ১ মে- ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই নতুন করে সামরিক হামলা চালাতে পারে-এমন আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের…

ইরান যুদ্ধ বন্ধ ও সেনা প্রত্যাহার প্রস্তাব নাকচ করেছে মার্কিন সিনেট

মেলবোর্ন, ১ মে- ইরানে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং সেখানে নিয়োজিত মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ডেমোক্র্যাটদের উত্থাপিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নাকচ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার…

যেভাবে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করল নির্বাচন কমিশন

মেলবোর্ন, ১ মে- পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ এবং সংঘর্ষমুক্ত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন যে বিস্তৃত পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ…

ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব

মেলবোর্ন, ১ মে- ভারতের আসাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বাংলাদেশ নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে তলব করেছে বাংলাদেশ…

ইতালিতে ছোট ভাইকে হত্যা করে পরিবারকে জানাল বড় ভাই

মেলবোর্ন, ১ মে- ইতালিতে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে দুই প্রবাসী ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাত…

ট্রাম্পের ‘মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন যাচাইয়ে স্থগিতাদেশ’ অবৈধ: আদালত

মেলবোর্ন, ১ মে- মার্কিন অভিবাসন নীতিকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত আবারও বড় আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ৩৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য নাগরিকত্ব, গ্রিনকার্ড ও…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au