বিশ্ব

কারাবাস থেকে আবারও গৃহবন্দী অং সান সু চি

  • 1:52 pm - May 01, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৬২ বার
মিয়ানমারের সাবেক রাষ্ট্রনেত্রী অং সান সু চি। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১ মে- মিয়ানমারের সাবেক রাষ্ট্রনেত্রী অং সান সু চি-কে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দী করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দীর্ঘদিনের কারাবাসের পর এই স্থানান্তরের খবরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও তাঁর প্রকৃত অবস্থান, স্বাস্থ্য এবং স্বাধীন যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সু চিকে তাঁর অবশিষ্ট সাজা ‘নির্ধারিত বাসস্থানে’ ভোগ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর একটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দুজন সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়। তবে এই ছবির সত্যতা ও সময়কাল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর পরিবার।

এর আগে সু চির আইনজীবীরা জানান, তাঁর সাজার মেয়াদ ছয় ভাগের এক ভাগ কমানো হয়েছে। কিন্তু সেই সময়ও স্পষ্ট ছিল না, তিনি কারাগারে থাকবেন নাকি গৃহবন্দী হিসেবে সাজা ভোগ করবেন। সর্বশেষ ঘোষণার পরও আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাদের সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক অবহিত করা হয়নি।

২০২১ সালে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতা দখল করেন। সেই সময়ই গ্রেপ্তার করা হয় সু চিকে। এরপর থেকে রাজধানী নেপিডোর একটি সামরিক কারাগারে তিনি বন্দী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। অভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশটির রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন মিন অং হ্লাইং, যিনি চলতি বছরের ৩ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব নেন। যদিও আন্তর্জাতিক মহলের পর্যবেক্ষণে ওই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না।

সু চির ছেলে কিম অ্যারিস এই ঘোষণাকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। তিনি বলেন, তাঁর কাছে এমন কোনো প্রমাণ নেই যা নিশ্চিত করে যে তাঁর মা সত্যিই কারাগার থেকে সরানো হয়েছে। প্রকাশিত ছবিটিকেও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন, দাবি করেছেন এটি পুরোনো, সম্ভবত ২০২২ সালে তোলা। তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ না সরাসরি তাঁর মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন বা কোনো স্বাধীন পক্ষ তাঁর অবস্থান যাচাই করতে পারছে, ততক্ষণ এই ধরনের দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়।

সেনা অভ্যুত্থানের দিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে সু চির বিষয়ে তথ্য প্রায় অদৃশ্য হয়ে যায়। গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁর আইনজীবীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে দুই বছরের বেশি সময় ধরে। ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা এবং জীবনযাপনের পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সবশেষবার ২০২১ সালের মে মাসে একটি আদালতে সু চিকে জনসমক্ষে দেখা যায়। এরপর একাধিক মামলায় তাঁকে দণ্ড দেওয়া হয়। উসকানি, দুর্নীতি, নির্বাচনী জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের মতো অভিযোগে তাঁকে মোট ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে তা কয়েক দফায় কমানো হয়েছে। তবে তাঁর সমর্থকরা বরাবরই দাবি করে আসছেন, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার কৌশল।

বিশ্লেষকদের মতে, হঠাৎ করে সু চির গৃহবন্দী হওয়ার ঘোষণা মিয়ানমারের সামরিক সরকারের কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। আন্তর্জাতিক চাপ ও বিচ্ছিন্নতা কমানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কিছু সামরিক সাফল্যের পর জান্তা সরকারের আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

এ বছরের শুরুতে মিয়ানমারে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সেটিকে অনেকেই ‘নামেমাত্র গণতান্ত্রিক’ বলে অভিহিত করেছেন। কারণ, কার্যত ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ এখনো সামরিক বাহিনীর হাতেই রয়ে গেছে।

অং সান সু চি দীর্ঘদিন গৃহবন্দী অবস্থায় থেকেও অহিংস আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তাঁর বাসভবন থেকে দেওয়া ভাষণগুলো তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে গণতন্ত্রের আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৯১ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

তবে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকটের সময় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাঁর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপরও দেশটির অভ্যন্তরে তাঁর জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য ছিল।

সাম্প্রতিক এই গৃহবন্দী করার ঘোষণাকে ঘিরে একদিকে যেমন নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। সু চির প্রকৃত অবস্থা, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ এবং ভবিষ্যতে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এই শাখার আরও খবর

টাইফুন দুজুয়ানের তাণ্ডবে জাপানে ১৯ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ানের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জাপানের রাজধানী টোকিওসহ দেশটির পূর্বাঞ্চল। প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো বাতাস, বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কায় ছয়টি প্রশাসনিক অঞ্চলের ১৯ লাখের…

রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ তুলে ডব্লিউএইচও ছাড়লেন সাইমা ওয়াজেদ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগের পর নিজের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করার অভিযোগ…

দুর্নীতির বরপুত্র তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপি’র যত মিথ্যাচার

আমি প্রায়ই বলি, বিএনপি দলটি দাঁড়িয়ে আছে মিথ্যের ওপর। আসলে দলটির নাম হওয়া উচিত Bangladesh Nontruth Party (BNP)।মোটামুটিভাবে শুরু থেকে আরম্ভ করে এখন পর্যন্ত দলটির…

বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকার ৩৬ শতাংশ : আইএমএফ

বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন শিক্ষিত তরুণের মধ্যে ৩৬ জন বেকার। শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৩৬ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য…

সুদানে মানবিক যুদ্ধবিরতি বারবার ব্যর্থ হচ্ছে কেন, দায় কার?

সুদানে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। যুদ্ধ বন্ধের বদলে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে লড়াই আরও তীব্র হচ্ছে। এর ফলে ভয়াবহ মানবিক সংকট আরও গভীর…

কেরানীগঞ্জে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও ভাইকে গুলি, ২৫ ভরি সোনা লুট

ঢাকার কেরানীগঞ্জে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও তাঁর ফুফাতো ভাইকে গুলি করে প্রায় ২০ থেকে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au