নিহত নয়ন ফকির। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১ মে- ইতালিতে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে দুই প্রবাসী ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে ইতালির লেইজ শহরে ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পর বড় ভাই ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং নিহত ভাইয়ের মরদেহও দেখান বলে জানা গেছে।
নিহত ব্যক্তি মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামের দেলু ফকিরের ছোট ছেলে নয়ন ফকির। অভিযুক্ত বড় ভাই হুমায়ুন ফকিরও একই পরিবারের সদস্য। স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানিয়েছে, দুই ভাইই দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছিলেন।
নিহতের পরিবার জানায়, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। ওই বিরোধের জেরেই বৃহস্পতিবার রাতে বড় ভাই হুমায়ুন ফকির ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছোট ভাই নয়ন ফকিরকে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পরপরই হুমায়ুন ফকির পরিবারের সদস্যদের ভিডিও কল করেন এবং সেখানে তিনি ছোট ভাইয়ের মরদেহ দেখান ও হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। এই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে পরিবারে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে ইতালির স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত হুমায়ুন ফকিরকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হুমায়ুন ফকির প্রায় ১২ বছর ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। তিনি প্রথমে লিবিয়ায় যান, পরে সেখান থেকে ইতালিতে প্রবেশ করেন। ২০২৩ সালে তিনি তার ছোট ভাই নয়ন ফকিরকে ইতালিতে নিয়ে যান বলে জানা গেছে।
ঘটনার পেছনে পারিবারিক সম্পর্ক ও দাম্পত্য বিষয়ক বিরোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করেছেন এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, হুমায়ুন ফকিরের দুটি বিয়ে ছিল। তিনি সম্প্রতি তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে ছোট ভাই নয়ন ফকির তাকে বাধা দেন। এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।
এ ঘটনায় টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ডাবলু বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে ইতালিতে এক ভাইয়ের হাতে আরেক ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা জেনেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করা হয়েছে।