মেলবোর্ন, ৯ অক্টোবর- ডিজিটাল যুগে কনটেন্ট নির্মাতা বা ক্রিয়েটরের ভূমিকা গত দশকেই নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। এখন আর একজন সফল কনটেন্ট নির্মাতা শুধু গল্প বলার দক্ষতার ওপর নির্ভর করতে পারেন না। ভিডিও, লেখা, অডিও এবং সোশ্যাল মিডিয়া—এই সব মাধ্যমের সঙ্গে কাজ করার জন্য তাদের বহুমুখী দক্ষতা থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কনটেন্ট নির্মাতা শুধুমাত্র সৃজনশীলতা দেখিয়ে দর্শক আকৃষ্ট করতে পারলে হবে না। তাদেরকে একই সঙ্গে মার্কেটের চাহিদা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ট্রেন্ড, প্রযুক্তি ও দর্শকের মনোভাব বুঝতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তিগত দক্ষতা যেমন—ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, অডিও–ভিডিও প্রোডাকশন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম বোঝার ক্ষমতা।
আজকের দিনে কনটেন্ট নির্মাতা সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগ, পডকাস্ট এবং ইউটিউবের মতো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সরাসরি দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন। তাদের কাজের মূল লক্ষ্য কেবল তথ্য পৌঁছে দেওয়া নয়; বরং দর্শকের সঙ্গে অনুভূতিগত ও মানসিক সংযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ডিজিটাল কনটেন্ট বিশেষজ্ঞ রাহুল চক্রবর্তী বলেন, “একজন ক্রিয়েটরকে শুধু গল্প বলার দক্ষতা নয়, ডেটা বিশ্লেষণ, ট্রেন্ড শনাক্তকরণ এবং মার্কেটিং কৌশলেও পারদর্শী হতে হবে। নতুন যুগের গল্পকার মানে পুরোপুরি মাল্টিটাস্কার।”
তবে প্রযুক্তি এবং সৃজনশীলতার পাশাপাশি দর্শক বিশ্লেষণ ও কৌশলগত চিন্তাভাবনা এখন অপরিহার্য। দর্শকের আগ্রহ, তাদের মন্তব্য, শেয়ার ও লাইক—সবকিছুই কনটেন্টের সফলতা মাপার মানদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। তাই ক্রিয়েটরদের অবশ্যই দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী কনটেন্টের বিষয়বস্তু, ফরম্যাট এবং প্রচারের কৌশল নির্ধারণ করতে হয়।
ইউটিউব: সপ্তাহের মাঝামাঝি অর্থাৎ বুধবার ও শুক্রবার বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে পোস্ট করলে অনেক বেশি রিচ পাওয়া যায়। কারণ, ওই সময় ব্যবহারকারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ভিডিও দেখেন। ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক: সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এবং রাত ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে পোস্ট করলে এনগেজমেন্ট বেশি হয়।
ফেসবুক: দুপুরের পর থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে পোস্ট করলে বেশি ভিউ আসে।
লিংকডইন: অফিস সময়ের শুরুতে অর্থাৎ সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে কনটেন্ট পোস্ট করলে ভালো ফল মেলে।
তবে সময় একা কিছু নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত কনটেন্ট পোস্ট করা। যদি নির্দিষ্ট সময় ধরে প্রতিনিয়ত আপনি পোস্ট করেন, প্ল্যাটফর্ম আপনার কনটেন্টকে ‘বিশ্বস্ত’ ধরে নেয় এবং বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়। স্মার্ট ক্রিয়েটররা কনটেন্ট বানানোর মতো ডেটা বিশ্লেষণেও মনোযোগী। তাঁরা দেখেন, কোন সময় ভিডিও বেশি দেখা হচ্ছে, কোথায় দর্শক থেমে যাচ্ছে আর কখন স্ক্রল করে চলে যাচ্ছে।
এছাড়া ক্রমাগত শেখার মনোভাব থাকা আজকের কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রযুক্তি, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ফিচার, ডিজিটাল মার্কেটিং টুল এবং ট্রেন্ড সম্পর্কে জানতে পারলেই তারা প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কনটেন্ট নির্মাতা যেন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেন, তার জন্য নিয়মিত শিখতে হবে এবং দর্শকের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হবে।
ফলে, ডিজিটাল যুগে কনটেন্ট নির্মাতা শুধু গল্প বলার দক্ষতা নয়, প্রযুক্তি, দর্শক বিশ্লেষণ, মার্কেটিং ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ই তাকে সফল করে। এক কথায়, নতুন যুগের গল্পকার মানে একাধিক দক্ষতা সমৃদ্ধ একজন মাল্টিটাস্কার।