ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ।
মেলবোর্ন, ১o অক্টোবর- দীর্ঘদিনের আলোচনার পরও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ আজও অনিশ্চিত। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বিমুখী অবস্থান এই লক্ষ্যের বাস্তবায়নকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক আলোচনাগুলো আশার আভাস দিলেও, প্রকৃত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া এখনো কার্যকর রূপরেখা পায়নি। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সীমান্ত কোথায় হবে, জেরুজালেমের অবস্থান কী হবে, আর কে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে—এসব প্রশ্নের জবাব এখনো অমীমাংসিত।
জাতিসংঘের একাধিক প্রস্তাবে দুই রাষ্ট্র সমাধানের আহ্বান জানানো হলেও ইসরায়েল এখনো সেই কাঠামোতে সম্মতি দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি এক বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, “ইসরায়েলের নিরাপত্তা সর্বাগ্রে, এবং আমরা কোনো এমন চুক্তিতে যাব না যা তা ক্ষুণ্ন করে।”
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও হামাসের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজনও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিম তীর ও গাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই দ্বন্দ্ব ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে দুর্বল করেছে।
বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইসরায়েলকে “প্রধান মিত্র” হিসেবে দেখছে, আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আরব দেশগুলো দুই রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়নে চাপ দিলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, যত দিন পর্যন্ত এসব মৌলিক প্রশ্নের জবাব না মেলে এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন উভয়পক্ষের মধ্যে আস্থা গড়ে না ওঠে, তত দিন স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা কেবল কূটনৈতিক বিবৃতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।