মেলবোর্ন, ১১ অক্টোবর- পশ্চিমা-বিরোধী সামরিক জান্তা শাসিত আফ্রিকান দেশ বুরকিনা ফাসো যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত ব্যক্তিদের গ্রহণে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। দেশটির মতে, এই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানেরই প্রতিফলন।
ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন দমনে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। এর অংশ হিসেবে এমন অভিবাসীদের বহিষ্কার করা হচ্ছে, যাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। এসব বিতাড়িত ব্যক্তিদের এমন দেশগুলোতে পাঠানো হচ্ছে, যারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতায় আগ্রহী।
সম্প্রতি আফ্রিকার কয়েকটি দেশ-ইসোয়াতিনি, ঘানা, রুয়ান্ডা ও দক্ষিণ সুদান-যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত লোকজনকে গ্রহণ করেছে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে বুরকিনা ফাসোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী কারামোকো জ্যাঁ-মারি ট্রাওরে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেন, ওয়াশিংটনের এই প্রস্তাব দেশটি প্রত্যাখ্যান করেছে।
তিনি বলেন,“স্বাভাবিকভাবেই আমরা এই প্রস্তাবকে অগ্রহণযোগ্য, অশোভন এবং মর্যাদাহানিকর বলে মনে করছি। এটি আমাদের জাতীয় মর্যাদা ও নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।”
এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে ওয়াগাদুগুতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানায়, বুরকিনা ফাসোর নাগরিকদের জন্য নিয়মিত ভিসা পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এখন থেকে দেশটির নাগরিকদের ভিসা সংক্রান্ত কাজের জন্য প্রতিবেশী দেশ টোগোর রাজধানী লোমে যেতে হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রাওরে প্রশ্ন তোলেন,“এটা কি আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগের একটি কৌশল? এটা কি এক ধরনের ব্ল্যাকমেইল? যাই হোক না কেন, বুরকিনা ফাসো হলো মর্যাদার দেশ—একটি গর্বিত জাতি, কোনো বহিষ্কারের গন্তব্য নয়।”
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন সামরিক নেতা ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরে। এরপর থেকেই তিনি নিজেকে এক দৃঢ় প্যান-আফ্রিকান ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন।
তিনি ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক শীতল করে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। সাম্প্রতিক এই অবস্থানও সেই নীতিরই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: রয়টার্স