মেলবোর্ন, ১২ অক্টোবর: এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার জয় করেছেন ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রপন্থী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। তবে ঘোষণার পর থেকেই তার নাম ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক। সমালোচকদের অভিযোগ, ইসরায়েলের প্রকাশ্য সমর্থক এবং বিতর্কিত ডানপন্থী রাজনৈতিক অবস্থানের অধিকারী একজন নেত্রীকে শান্তির নোবেল দেওয়া “পুরস্কারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।”
মাচাদোর অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। সমালোচকরা বলছেন,
২০০২ সালে ভেনেজুয়েলার সামরিক অভ্যুত্থানে তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন,“কারামোনা ডিক্রি”-তে স্বাক্ষর দিয়ে রাতারাতি দেশটির সংবিধান ও সরকারি প্রতিষ্ঠান বিলুপ্তির পক্ষে গিয়েছিলেন,ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছিলেন,এবং সম্প্রতি গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট হলে ভেনেজুয়েলার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করবেন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে “একাত্মতা” প্রকাশ করবেন- যা ফিলিস্তিনপন্থী বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
ভেনেজুয়েলার বংশোদ্ভূত বিশ্লেষক মিচেলে এলনার “কমন ড্রিমস”-এ লেখেন,
“যখন মারিয়ার মতো ডানপন্থীরা শান্তিতে নোবেল জেতে, তখন শান্তির আসলে কোনো অর্থ থাকে না।”
তিনি আরও বলেন, মাচাদো জনগণের নয়, বরং বিদেশি স্বার্থের পক্ষে কাজ করেছেন এবং ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষকে কষ্টে ফেলতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন দিয়েছেন।
নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বহু পক্ষ। মার্কিন প্রশাসন পর্যন্ত বলেছে,
“কমিটি শান্তির চেয়ে রাজনীতিকে প্রাধান্য দিয়েছে।”
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মন্তব্য করেছেন,“যারা শান্তির জন্য কিছুই করেননি, তারাই এখন নোবেল পাচ্ছেন। এই পুরস্কার বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে।”
নরওয়ের সংসদ সদস্য বিয়র্নার মক্সনেস জানান, মাচাদো ২০২০ সালে ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি করেছিলেন- যা গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের দায়ে থাকা একটি দল।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মুসলিম অধিকার সংগঠন সিএআইআর (CAIR) এক বিবৃতিতে নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তকে
“অবিবেচনাপ্রসূত ও অগ্রহণযোগ্য”
বলে অভিহিত করেছে। সংগঠনটির দাবি, এই সিদ্ধান্ত “নোবেল কমিটির মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করেছে” এবং তা “অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করা উচিত।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, মাচাদোর প্রতি সমর্থন ও বিরোধিতার এই বিভাজন বিশ্ব রাজনীতির নতুন বাস্তবতা তুলে ধরেছে- যেখানে শান্তি পুরস্কারও আর রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকছে না।
সূত্র : আল জাজিরা