মেলবোর্ন, ১২ অক্টোবর: ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনে কয়েক প্রজন্ম সময় লাগবে, বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, গাজার বর্তমান অবস্থা “মানবসভ্যতার জন্য লজ্জাজনক এক বিপর্যয়”।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক পাওলা গাভিরা বেতানকুর শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান,
“গাজায় অবকাঠামো, হাসপাতাল, স্কুল, পানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা- সবকিছুই প্রায় নিশ্চিহ্ন। এমন ধ্বংসযজ্ঞের পর পুনর্গঠন কোনো এক সরকারের পক্ষে নয়, বরং কয়েক প্রজন্মের কাজ।”
তিনি আরও বলেন, গাজার শিশুরা যে মানসিক আঘাত নিয়ে বড় হচ্ছে, তা ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ সংকেত দিচ্ছে। “এটা শুধু ভবন নয়, পুরো এক সমাজকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে,” যোগ করেন তিনি।
জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
- গাজার ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে,
- হাসপাতালের ৯০ শতাংশ অচল,
- লাখো মানুষ গৃহহীন,
- খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির মারাত্মক সংকট চলছে।
বেতানকুর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান,
“গাজা শুধু পুনর্গঠনের জন্য নয়, বেঁচে থাকার জন্যও এখন বিশ্বজনীন সহায়তা প্রয়োজন।”
তিনি সতর্ক করেন, যদি অবরোধ ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা না তুলে নেওয়া হয়, তবে গাজার পুনর্গঠন শুরু করাও অসম্ভব হয়ে পড়বে।
জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থাগুলোর মতেও, গাজার বর্তমান অবস্থা ২১ শতকের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক ব্যর্থতার একটি উদাহরণ।
“এখানে যা ঘটেছে, তা কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়- এটি মানবসৃষ্ট ধ্বংস,” বলেন বেতানকুর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজার পুনর্গঠন যদি আজ থেকেই শুরু হয়, তবুও পুরোপুরি পুনরুদ্ধারে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ বছর সময় লাগবে।
রাজাগোপাল ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো জাতিগত নিধনের ঘটনা স্মরণ করে বলেন, এটি যেন আরেকটি নাকবা। গত দুই বছরে যা ঘটেছে, সেটি যেন তারই পুনরাবৃত্তি।
সুত্রঃ আল–জাজিরা