মেলবোর্ন, ১৩ অক্টোবর- ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আহ্বান জানিয়েছেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ যেন মধ্যপ্রাচ্যের মতো দীর্ঘস্থায়ী এবং ধ্বংসাত্মক না হয়। শনিবার কিয়েভে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা চাই আন্তর্জাতিকভাবে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীদের তত্ত্বাবধানে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা হোক, যাতে সাধারণ মানুষ আর ভয়ভীত না হয় এবং মানবিক সংকট আরও বৃদ্ধি না পায়।”
জেলেনস্কি যুক্তি দেন, মধ্যপ্রাচ্যে বহুবার আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় সংঘাত কমানো সম্ভব হয়েছে এবং তা স্থানীয় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছে। তিনি বলেন, “ইউক্রেনে এখন মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। শরণার্থী সংখ্যা বাড়ছে, খাদ্য ও ওষুধের অভাব প্রকট, এবং শহরগুলো ধ্বংসের মুখে। তাই এখনই আন্তর্জাতিক সহায়তা ও মধ্যস্থতা প্রয়োজন।”
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউক্রেনে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। কয়েক লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ত্যাগ করেছে এবং সিভিল অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। শহরগুলোতে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ অনিয়মিত, স্কুল ও হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত।
ইউক্রেনের পশ্চিমা অংশ বিশেষ করে লভিভ ও কিয়েভ নিরাপদ হলেও, পূর্বাঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে যুদ্ধ তীব্র এবং লোকসান অনেক। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই মানবিক ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে, তবে চলমান সংঘাতের কারণে কাজ জটিল হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি আহ্বানকে বিশ্লেষকরা রাজনৈতিক সংকেত হিসাবেও দেখছেন।ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটো এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ইতিমধ্যেই যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রক্রিয়ার ত্বরান্বয় চেয়ে আহ্বান জানিয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার মতো আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা গ্রহণ করলে ইউক্রেনে স্থায়ী শান্তি আনার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
কিয়েভ ও অন্যান্য নিরাপদ এলাকায় মানুষ যুদ্ধের ক্ষতিপূরণে ঘর ঠিক করছে, কিন্তু পূর্বাঞ্চলের পরিবারের জীবনের রুটিন এখনো ব্যাহত। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত; তারা নিয়মিত বোমার শব্দে আতঙ্কিত, স্কুল বন্ধ এবং খাদ্যসংকটের মুখে।
জেলেনস্কির আহ্বানকে স্থানীয়দের মধ্যে আশার আলো হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপ এবং মধ্যস্থতার মাধ্যমে যুদ্ধের তীব্রতা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।
ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের দীর্ঘায়ু রাশিয়ার সামরিক এবং রাজনৈতিক কৌশলসহ আন্তর্জাতিক চাপের ওপর নির্ভর করছেজেলেনস্কির আহ্বান যুদ্ধবিরতি আনতে সাহায্য করতে পারে, তবে বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় শক্তি এবং জাতিসংঘের সক্রিয় মধ্যস্থতা জরুরি।মানবিক সংকট, শরণার্থী ও ধ্বংসস্তূপের পুনর্গঠন এখনই প্রাধান্য পাওয়া উচিত।
সুত্রঃ এএফপি