অভিনেতা শামস সুমনের মৃত্যু, নাট্যাঙ্গনে শোকের ছায়া
মেলবোর্ন, ১৮ মার্চ- দেশের অভিনয় অঙ্গনের পরিচিত মুখ শামস সুমন আর নেই। বিশিষ্ট এই অভিনেতা ও রেডিও ভূমি-র স্টেশন চিফের মৃত্যুতে (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)…
মেলবোর্ন, ১৩ অক্টোবর- মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে মিসরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক গুরুত্বপূর্ণ ‘শান্তি সম্মেলন’। গাজায় দুই বছর ধরে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে এই বৈঠকে বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের শীর্ষ নেতা যোগ দেবেন। তবে এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকছে না সংঘাতের দুই প্রধান পক্ষ-ইসরায়েল ও হামাস।
গাজার পর্যটননগরী শারম আল শেখে সোমবার বসছে এই সম্মেলন। ট্রাম্পের ‘শান্তি পরিকল্পনার’ প্রথম ধাপে গত শুক্রবার থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সম্মেলনে ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।
মধ্যপ্রাচ্য সফরের অংশ হিসেবে সোমবার সকালে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প, এরপর মিসরের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। মিসর সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো গাজার সংঘাতের স্থায়ী সমাধান এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার নতুন যুগের সূচনা।
সম্মেলনের সহ-সভাপতিত্ব করবেন ট্রাম্প ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। এতে অংশ নেবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও যোগ দিতে পারেন সম্মেলনে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখপাত্র শোশ বেদরোসিয়ান জানিয়েছেন, মিসরের এই বৈঠকে ইসরায়েল সরকারের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবেন না। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি সূত্র জানিয়েছে, গাজার সংঘাত নিয়ে আলোচনা হলেও হামাসের কোনো নেতা উপস্থিত থাকছেন না। হামাসের আলোচক দলের প্রধান খলিল আল-হায়াসহ বেশির ভাগ সদস্য ইতিমধ্যেই মিসর ছেড়ে গেছেন।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যতম ধাপ হিসেবে সোমবার ভোর থেকে শুরু হয়েছে বন্দিবিনিময় প্রক্রিয়া। হামাসের হাতে থাকা জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিদের রেডক্রসের মাধ্যমে ইসরায়েলে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, আর মৃতদের মরদেহ পতাকায় মোড়ানো কফিনে করে ফিরিয়ে আনা হবে।
ইসরায়েলি কারাগারে আটক থাকা ১ হাজার ৯৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দী, যাঁদের মধ্যে ২৫০ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত, তাঁদের মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে। এই বন্দীদের মধ্যে ২২ জন শিশু। বন্দীদের মুক্তি উদ্যাপন করতে নিষেধ করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল আক্রমণ ছিল এই সংঘাতের সূচনা। হামলায় প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়, যাদের মধ্যে বর্তমানে ৪৮ জন এখনো সেখানে রয়েছেন-২০ জন জীবিত ও ২৮ জন মৃত।
যুদ্ধবিরতির পরও গাজার বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অবিরাম উদ্ধার হচ্ছে মরদেহ। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২৪টি মরদেহ গাজার হাসপাতালগুলোতে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১১৭টি ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়।
এতে দুই বছরের সংঘাতে ফিলিস্তিনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৮০৬ জনে, আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ। অনাহারে মারা গেছেন অন্তত ৪৬০ জন। তবে যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
যুদ্ধবিরতির পর নিজ এলাকায় ফিরছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। কিন্তু তাঁদের চোখে শুধু ধ্বংসস্তূপ। গাজা নগরীতে ফিরে আসা এক বাসিন্দা রামি মোহাম্মদ আলী বলেন, “ধ্বংসের যে মাত্রা দেখছি, তা বিশ্বাস করার মতো নয়। নিজের ঠিকানায় ফিরেও খুশি হতে পারছি না।”
মিসরের সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বনেতাদের অনেকে আশা করছেন, এই আলোচনার মধ্য দিয়েই হয়তো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শান্তির অধ্যায় শুরু হতে পারে। তবে হামাস ও ইসরায়েলের অনুপস্থিতিতে এই উদ্যোগ কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
সুত্রঃ আল–জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au