মেলবোর্ন, ১৩ অক্টোবর- গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে আজ (রোববার) হামাস সব জীবিত বন্দিদের মুক্তি দেবার ঘোষণা দিয়েছে। রেড ক্রসের তত্ত্বাবধানে এসব বন্দিকে নির্দিষ্ট চাহিদা অনুযায়ী ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে আলোচনার ফলশ্রুতিতে যে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির দলিল এসেছে, তার অন্যতম শর্ত ছিল বন্দিদের ব্যাপক বিনিময়। চলতি বিনিময়ে হামাসের হাতে থাকা সকল জীবিত ইসরায়েলি বন্দিকে (সংখ্যা বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও পূর্বের হিসাব অনুযায়ী আনুমানিক ২০ জন জীবিত বন্দি গাজার ভিতরে ছিলেন) মুক্তি দেওয়া হবে; বদলে ইসরায়েল গাজার কারাগরে থাকা কয়েক শ ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেবে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সূত্র বলছে, জীবিত বন্দিদের রেডক্রসের মাধ্যমে নিরাপদ কনভয়ে ইসরায়েলের নির্দিষ্ট সামরিক স্থানে পৌঁছে দেওয়া হবে। মৃত বন্দিদের মরদেহ যথাযথ কফিনে করে হস্তান্তরের ব্যবস্থা একই বুধবার থেকে শুরু হয়েছিল; এরই ধারাবাহিকতায় আজ জীবিত বন্দিদের পালা। দুই পক্ষই উভয় দিকের নিরাপত্তা বজায় রাখার দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
বন্দিদের মুক্তি ও বন্দিবিনিময়কে অনেকেই মানবিক সফলতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গাজার বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র লড়াই ও ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ কমেনি। স্থানীয় হাসপাতাল ও ত্রাণ সংস্থাগুলো জরুরি চিকিৎসা ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্বনেতারা-যাদের মধ্যে কয়েকজন মিসরে শান্তি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন আশা প্রকাশ করেছেন, বন্দিবিনিময় ও যুদ্ধবিরতি প্রয়োগ হলে গাজায় দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে সুবিধা হবে এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী শান্তির পথে চলা সহজ হবে। তবে হামাস ও ইসরায়েল দুই প্রধান পক্ষের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া সামগ্রিক প্রক্রিয়ার স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।