ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ
মেলবোর্ন, ২৭ জুন- ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ…
মেলবোর্ন, ২৯ অক্টোবর- গাজায় আবারও ভয়াবহ হামলার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রী দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ করেছে, তাই সেনাবাহিনীকে অবিলম্বে গাজায় তীব্র হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “নিরাপত্তাবিষয়ক পরামর্শের পর প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) গাজায় পূর্ণমাত্রায় আক্রমণ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।” তবে কখন, কোথায় বা কত সময় ধরে এই হামলা চলবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন ফিলিস্তিনিরা। ছবিঃ রয়টার্স
ইসরায়েল দাবি করেছে, সোমবার হামাস একজন ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত দেয়। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, এটি দুই বছর আগে নিহত এক ব্যক্তির মরদেহ, যার কিছু অংশ ইসরায়েলি বাহিনী ২০২৩ সালের শেষ দিকে উদ্ধার করেছিল। ইসরায়েলের মতে, হামাস এখনো ১৩ জন জিম্মির মরদেহ ধরে রেখেছে, এবং ফেরত দেওয়া মরদেহটি তাদের কারও নয়।
অন্যদিকে হামাসের সামরিক শাখা কাসেম ব্রিগেড জানিয়েছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় তারা আজ সকালে হস্তান্তর করার কথা ছিল যে জিম্মির মরদেহ, তা আপাতত স্থগিত করেছে। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলের যেকোনো সামরিক তৎপরতা জিম্মিদের মরদেহ খোঁজা ও উদ্ধার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করবে, ফলে এই প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত হবে।
এই উত্তেজনার সূত্রপাত ৯ অক্টোবর মিসরের শারম আল শেখ শহরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি সই হয় এবং ১০ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়। কিন্তু যুদ্ধবিরতির পরও দুই পক্ষ একে অপরকে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত করে আসছে।

গাজায় প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে হামাস সদস্যদের। ছবিঃ রয়টার্স
গাজার বর্তমান সংঘাতের সূত্রপাত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর। সেদিন হামাসের সশস্ত্র সদস্যরা ইসরায়েলের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলিকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। এরপরই ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে, যা আজও চলছে।
গাজায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৮ হাজার ৫০০–এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। হাজার হাজার মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
আন্তর্জাতিক মহল ইসরায়েলকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানালেও নেতানিয়াহুর নতুন নির্দেশে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সুত্রঃ আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au