পণ্যের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াল অ্যাপল ও মাইক্রোসফট
মেলবোর্ন, ২৬ জুন- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপ ও স্টোরেজ উপাদানের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় জনপ্রিয় বিভিন্ন পণ্যের দাম ২০…
মেলবোর্ন, ৫ নভেম্বর- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলো গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দুই বছরের জন্য নিজেদের হাতে নিতে একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরবর্তী সময়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন গাজায় একটি “আন্তর্জাতিক অন্তর্বর্তী শাসন ব্যবস্থা (International Transitional Authority)” গঠন করতে চায়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে অংশ নেবে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও কয়েকটি ইউরোপীয় মিত্র দেশ। এ ছাড়া জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর মতো একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মিশন পরিচালনারও পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই অন্তর্বর্তী সরকার দুই বছরের জন্য দায়িত্বে থাকবে। এই সময়ের মধ্যে গাজায় মানবিক সহায়তা, অবকাঠামো পুনর্গঠন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার পুনরুদ্ধার এবং নিরাপত্তা জোরদারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দুই বছর শেষে স্থানীয় প্যালেস্টিনীয় প্রশাসনের কাছে ধীরে ধীরে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।
সামরিক ও নিরাপত্তা অংশের নেতৃত্বে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সমন্বিত একটি বাহিনী, যারা গাজা উপত্যকায় হামাসের অবশিষ্ট সশস্ত্র উপস্থিতি দমন ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা করবে। একই সঙ্গে, মিশরের সঙ্গে সমন্বয় করে গাজায় খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা প্রবেশের রুট নিরাপদ করা হবে।
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ইসরায়েল প্রাথমিকভাবে পরিকল্পনার পক্ষে মত দিলেও, তারা বলেছে, গাজায় কোনো বিদেশি সেনা মোতায়েন করা হলে তা “ইসরায়েলি সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ” হিসেবে দেখা হবে। অন্যদিকে, আরব লীগ ও তুরস্কসহ অনেক মুসলিম দেশ পরিকল্পনাটিকে ‘গাজার ওপর পশ্চিমা নিয়ন্ত্রণের নতুন রূপ’ বলে অভিহিত করেছে।
প্যালেস্টিনীয় কর্তৃপক্ষ (PA) এক বিবৃতিতে জানায়, “গাজা প্যালেস্টিনীয় ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানকার শাসন গাজাবাসীর হাতে থাকা উচিত, বিদেশি শক্তির নয়।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, এটি মূলত গাজায় হামাস-পরবর্তী প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি রাজনৈতিক পরীক্ষা।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন, পরিকল্পনাটি গাজায় শান্তি ও পুনর্গঠনের জন্য “অস্থায়ী সমাধান”, স্থায়ী দখল নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও এক বিবৃতিতে বলেন,
“আমরা গাজায় স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও মানবিক পুনর্গঠন চাই। আমাদের লক্ষ্য গাজাকে নতুন করে গড়ে তোলা — দখল নয়।”
আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে জাতিসংঘে আসন্ন প্রস্তাবনাটির দিকে, যা গাজায় “আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা মিশন” অনুমোদনের পথ খুলে দিতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au