গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক জোহরান মামদানী নির্বাচিত মেয়র।
মেলবোর্ন, ৫ নভেম্বর: নিউ ইয়র্কে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানী। ৩৪ বছর বয়সে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম শহরের সর্বকনিষ্ঠ এবং প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে। ডানপন্থী ও কর্পোরেট প্রভাবের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েই তিনি এই জয় অর্জন করেছেন।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ঘোষণা করে যে মামদানী নিউ ইয়র্কের নতুন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ডেমোক্রেট প্রার্থী হিসেবে প্রাক্তন গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে পরাজিত করেন, যিনি দলীয় প্রাইমারিতে হারার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন। ভোটের প্রায় ৯০ শতাংশ গণনা শেষে মামদানী পেয়েছেন ৫০ দশমিক ৪ শতাংশ, আর কুয়োমো পেয়েছেন ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ।
ব্রুকলিন, ম্যানহাটন ও ব্রঙ্কসে মামদানী অর্ধেকের বেশি ভোট পেয়েছেন। কুইন্সেও তিনি এগিয়ে ছিলেন। কুয়োমো জিতেছেন কেবল ছোট এবং রক্ষণশীল এলাকা স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে। এই ফলাফল পূর্বাভাস অনুযায়ী এলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক শক্ত বার্তা পাঠিয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় মামদানীর প্রধান অঙ্গীকার ছিল সাধারণ মানুষের জীবিকা ও বসবাসের খরচ কমানো। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ভাড়া স্থগিত করা, সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন তৈরি করা, বাস সেবা বিনামূল্যে করা এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সার্বজনীন বিনা মূল্যের শিশুযত্ন চালু করার। তিনি কর্পোরেট ও ধনী শ্রেণির ওপর কর বৃদ্ধি করে এসব পরিকল্পনার অর্থ জোগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মামদানী বলেন,
“নিউ ইয়র্ক কেবল ধনী কয়েকজনের শহর নয়, এটি হবে কর্মজীবী মানুষের শহর।”
তিনি বছরে ১০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি আয়কারীদের ওপর ২ শতাংশ শহর কর এবং কর্পোরেট ট্যাক্স ৭ দশমিক ৫ থেকে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। তার বিরোধীরা যদিও তাকে অতিবামপন্থী ও পুলিশবিরোধী বলে সমালোচনা করেছে, মামদানী নির্বাচনী প্রচারণায় স্পষ্ট করে বলেন শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে তিনি বর্তমান পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশকে বহাল রাখবেন।
প্রাক্তন গভর্নর কুয়োমো পরাজয়ের পর বলেন, “নিউ ইয়র্ক বৈষম্য ও ঘৃণার জায়গা নয়, আমরা সেই বার্তা দিতে পেরেছি।” প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন মামদানীর প্রচারণাকে অনুপ্রেরণামূলক বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেন, “এই নির্বাচনে ব্যাপক ভোটার উপস্থিতি ছিল গণতন্ত্রের জন্য এক জয়।”
জোহরান মামদানীর জয় প্রমাণ করল, নিউ ইয়র্কের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে এবং তারা এমন এক নেতৃত্ব চায়, যে শহরের কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করবে।