সোমবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কনফারেন্স রুমে অর্থ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলেন শিক্ষকদের নেতা খায়রুন নাহার লিপি , ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১১ নভেম্বর- দীর্ঘ সাত দিন ধরে চলা আন্দোলনের অবসান ঘটিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অবশেষে তাদের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস ও ভাতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত আশ্বাস পাওয়ার পর রবিবার বিকেলে শিক্ষক সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্ত জানায়।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন,
“অর্থ মন্ত্রণালয় আমাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। আগামী মাসের মধ্যেই বেতন কাঠামো সংস্কার ও পদোন্নতি সংক্রান্ত প্রস্তাব বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা আন্দোলন আপাতত স্থগিত করছি এবং আগামীকাল থেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরছি।”
প্রাথমিক শিক্ষকরা গত সপ্তাহ থেকে বেতন বৈষম্য দূরীকরণ, পদোন্নতির সুযোগ বৃদ্ধি, এবং শিক্ষকদের মর্যাদা পুনঃনির্ধারণ-এর দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।
তাদের অভিযোগ ছিল, নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পর প্রাথমিক শিক্ষকদের অনেকেই মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের তুলনায় কম বেতন পাচ্ছেন, যা “অন্যায্য ও হতাশাজনক।”
অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ও পদোন্নতি কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি, সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির সময়সীমা কমানো এবং প্রশিক্ষণ ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান,
“প্রাথমিক শিক্ষকরা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মেরুদণ্ড। তাদের দাবিগুলো যুক্তিসংগত, তাই দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত সমাধান প্রণয়ন করা হবে।”
আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণায় শিক্ষক সমাজে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেক শিক্ষক জানিয়েছেন, তারা সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।
ঢাকা জেলার এক প্রধান শিক্ষক বলেন,
“আমরা চাই কথার বাস্তব রূপ দেখতে। যদি প্রতিশ্রুতি পূরণ না হয়, তাহলে আবারও আন্দোলনে ফিরব।”
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে আপাতত সংকট প্রশমিত হলেও, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত বৈষম্য দূর না হলে এই অসন্তোষ ভবিষ্যতে আবার মাথাচাড়া দিতে পারে।
সরকারি আশ্বাস বাস্তবে কতটা রূপ নেয় এখন সেটিই শিক্ষাঙ্গনের মূল প্রশ্ন।