চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১১ নভেম্বর- দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, “এই মর্মান্তিক ঘটনায় যারা দায়ী, তারা কেউই রেহাই পাবে না। সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”
মঙ্গলবার ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ আমি ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এখানে এসেছি। গতকাল দিল্লিতে যে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে, তা গোটা দেশকে শোকাহত করেছে। আমি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। সমগ্র দেশ আজ তাদের পাশে রয়েছে।”
সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির রেড ফোর্ট মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর ১-এর কাছে একটি ধীরগতির গাড়িতে বিস্ফোরণে নয়জন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। পুলিশ জানায়, ওই হুন্ডাই আই২০ গাড়িটি থামার কয়েক সেকেন্ড পরই বিস্ফোরণ ঘটে। আশপাশের একাধিক গাড়ি এবং ই-রিকশাও আগুনে পুড়ে যায়।

লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে উচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ছবিঃ সংগৃহীত
তদন্তে উঠে এসেছে, গাড়িটি ছিল দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা ডা. উমর মোহাম্মদের নামে, যিনি সম্প্রতি ভাঙা একটি ‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’-এর সদস্য ছিলেন। এই মডিউলে পেশাজীবী কিছু ব্যক্তি জড়িত ছিল, যারা পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ডা. উমর আতঙ্কিত হয়ে বিস্ফোরণ ঘটান, কারণ এর আগেই পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল তাঁর সহযোগী ডা. মুজাম্মিল শাকিল ও ডা. আদিল রাদার। তাঁদের কাছ থেকে হরিয়ানার ফরিদাবাদের দুটি বাড়ি থেকে প্রায় ২,৯০০ কেজি সন্দেহভাজন বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গাড়িটি রেড ফোর্টের দিক থেকে শহরের কেন্দ্রীয় অংশের দিকে যাচ্ছিল। তাঁদের ধারণা, গাড়িটিতে বিপুল পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছিল, যা সার হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বোমা তৈরিতেও ব্যবহার করা যায়। একই ধরনের পদার্থ ফরিদাবাদের উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকেও পাওয়া গেছে।

দিল্লির লালকেল্লার কাছে সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হুন্ডাই আই২০ গাড়িটির একজন মালিক কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা বলে জানিয়েছেন তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র। ছবিঃ সংগৃহীত
ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা, জয়পুর, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানাসহ বিভিন্ন রাজ্যে জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা।
দিল্লি পুলিশ কমিশনার সত্যেশ গোলচা বলেন, “একটি ধীরগতির গাড়ি ট্রাফিক সিগনালে এসে থামলে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে আশপাশের বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
দিল্লি পুলিশ, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ, এনআইএ, এনএসজি, গোয়েন্দা সংস্থা, উত্তরপ্রদেশ এटीএস, হরিয়ানা ও গুজরাট পুলিশের যৌথ তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যে পুলওয়ামা থেকে তারিক নামে একজনকে আটক করেছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গাড়িটি একাধিকবার মালিকানা পরিবর্তন করেছে—প্রথমে একজন আমিরের নামে, পরে তারিকের, এবং সর্বশেষ ডা. উমরের নামে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এটি একটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা। এ ঘটনায় অনুপ্রবেশ, আন্তঃরাজ্য সন্ত্রাসী যোগাযোগ এবং সীমান্তপারের যোগসূত্রের দিকেও তদন্ত চলছে।

সতর্ক অবস্থানে পুলিশ। ছবি : সংগৃহীত
‘হোয়াইট কলার’ টেরর মডিউলটি নিয়ে তদন্তে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর, অনন্তনাগ, গান্দেরবল ও শোপিয়ানসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং হরিয়ানার ফরিদাবাদে অভিযান চালানো হয়। এতে ডা. মুজাম্মিল শাকিলের ভাড়া করা ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক, ২০টি টাইমার, রাইফেল, পিস্তল ও গোলাবারুদ। পরে আরেকটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় আরও ২,৫৬৩ কেজি বিস্ফোরক।
তদন্ত সংস্থার ধারণা, এ মডিউলের সদস্যরা শিক্ষিত ও পেশাজীবী শ্রেণির, যারা পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের ‘হ্যান্ডলার’-এর নির্দেশে ভারতে নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।
গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেওয়া এই বিস্ফোরণকে কেন্দ্র করে এখন চলছে বহুমুখী তদন্ত। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন, “দিল্লির এই নৃশংস হামলা মানবতার ওপর আঘাত। যারা এই ষড়যন্ত্রের পেছনে আছে, তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হবে।”
সুত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au