ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৩৫, আহত দেড় হাজারের বেশি
মেলবোর্ন, ২৬ জুন-দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত এক হাজার ৫২০ জন।…
মেলবোর্ন, ১৩ নভেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বিবিসি তার বক্তব্য ভুলভাবে সম্পাদনা করে জনগণকে প্রতারণার শিকার করেছে। সেই কারণে তিনি বিবিসিকে মোকাবেলা করার আইনগত দায়বদ্ধতা অনুভব করছেন এবং প্রতিষ্ঠানটিকে সম্মুখীন করার জন্য আইনগত পথ বেছে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
ট্রাম্পের আইনজীবী দলের বক্তব্য অনুযায়ী, বিবিসির ২০২৪ সালের প্যানোরামা উপস্থাপিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে তার ২০২১ সালের জানুয়ারি ৬-এর ভাষণের দুটি আলাদা অংশ কেটে জোড়া লাগানো হয়েছে, যাতে দর্শকের কাছে মনে হতে পারে যে তিনি সমর্থকদের সামনের দিকে সহিংসভাবে আহ্বান জানিয়েছেন।
ট্রাম্প বলছেন, এই সম্পাদনায় তার বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এজন্য বিবিসিকে রিইট্রাকশন, আনুষ্ঠানিক ক্ষমাপ্রার্থী এবং মুবাদ্দেল ক্ষতিপূরণ দিতে হবে তবে না হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অন্তত ১০০০ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ১ বিলিয়ন) মানহানির মামলা করবেন বলে আইনজীবী Alejandro Brito একটি চিঠিতে জানিয়েছেন।
ট্রাম্প নিজেই একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমি হয়ত এই মামলার দিকে এগোতেই হবে, কারণ তারা জনগণকে প্রতারণা করেছে এবং তারা এটি স্বীকারও করেছে। এটা ক্ষমতাসীন একটি মিত্র দেশের মাধ্যম থেকে হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুতর।” এই মন্তব্য পরে Fox News-এ সম্প্রচারিত হয়।
প্যানোরামা পর্বের কিছু সম্পাদনার ভুলের কথা স্বীকার করেছে এবং সংশ্লিষ্ট পর্বটি নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম থেকে সরানো হয়েছে বলে জানিয়েছে। এই ঘটনা অভ্যন্তরীণ অডিট ও লিক হওয়া একটি পরামর্শক মনোয়ারতার প্রতিবেদনকে ঘিরে আরও জোরালো বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, যার ফলশ্রুতিতে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদত্যাগও ঘটেছে।
আইনি বিশেষজ্ঞরা বলেন, ট্রাম্পের মামলা এগোলে তার সফলতার সুযোগ নির্ভর করবে বেশ কিছু জটিল বিষয়ের ওপর। মূলত দেখার বিষয় হবে যে ওই প্রামাণ্যচিত্রটি ফ্লোরিডায় কীভাবে এবং কোন পরিসরে প্রচারিত হয়েছিল এবং বিচারালয়ে ট্রাম্পকে ‘অ্যাকচুয়াল মালিস’ প্রমাণ করতে পারা যাবে কি না। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য এবং অনির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় অধিকার বিচারে বিবিসির একটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রকাশকে কেন ফ্লোরিডার কোর্টে টানা হবে, সেটিও একটি আইনি চ্যালেঞ্জ। অনেক বিশ্লেষক ট্রাম্পের দাবি আইনীভাবে কঠিন হবে বলে ধারণা করছেন।
এই বিবাদ কেবল একটি মিডিয়া-আইনি ঝামেলা নয়। এটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা, আর মার্কিন রাজনীতিতে বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমগুলোর ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তোলে। যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক পর্যায়ে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া এবং ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড দুটোই সরাসরি সম্পর্ক রাখে দু’দেশের কূটনৈতিক স্বার্থ ও জনমত নির্মাণের ওপর।
ট্রাম্পের আইনজীবীদের চিঠিতে বিবিসিকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল উত্তর দেয়ার জন্য। সময়সীমা শেষ হলে বিবিসি প্রত্যাখ্যান করলে ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী মামলা দাখিলের পথে যেতে পারে, কিন্তু কিভাবে এবং কোথায় মামলাটি আদৌ সফল হবে তা এখনও অনিশ্চিত। বিবিসি সূত্রগুলো বলছে তারা চিঠিটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানাবে।
প্যানোরামা পর্বটি ২০২৪ সালের অক্টোবরেই সম্প্রচারিত হয়েছিল। ওই প্রোগ্রামে ট্রাম্পের ভাষণ সংক্রান্ত সম্পাদনার বিষয়ে উদ্বেগ তোলার পর তা নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও বহির্গত প্রতিবেদন প্রকাশের সূত্র ধরে বিষয়টি ঘনীভূত হয় এবং সাম্প্রতিক এই আইনি ঝুঁকি তৈরি হয়।
সূত্র: রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au