ইয়েমেনে ভয়াবহ সংঘর্ষ, একদিনেই নিহত ১৪১
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত কয়েকটি…
মেলবোর্ন, ২৪ নভেম্বর- খুলনা নগরী গত এক বছরে হত্যাকাণ্ড এবং সশস্ত্র হামলার ঘটনায় বিপর্যস্ত। পুলিশের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে অর্ধশতাধিক মানুষ খুন হয়েছেন, আর গুলি ও হামলার ঘটনা তার চেয়ে অনেক বেশি। এই পরিস্থিতি নগরের সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগিয়ে তুলেছে। নির্বাচনের সময় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও, এখনো আইনশৃঙ্খলা ঠিকঠাক হয়নি।
সোমবার (২২ নভেম্বর) নাইম (২৬) নামের এক যুবক কুপিয়ে জখম হন। এর আগের দিন হরিণটানা এলাকায় রাজু (২৮) গুলিবিদ্ধ হন। ১৬ নভেম্বর লবণচরা এলাকায় নানিসহ দুই নাতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিনে করিমনগর এলাকায় মো. আলাউদ্দিনকে তার স্ত্রীর সামনে গুলি ও গলা কেটে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।
গত বছরের বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১২ নভেম্বর খুলনা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আগুন দেয়া, ১৪ অক্টোবর সশস্ত্র হামলায় দুই যুবক গুলিবিদ্ধ হওয়া, ৬ অক্টোবর কাস্টম ঘাট এলাকায় ইমরান মুন্সি (২৯)-এর হত্যা, ৯ অক্টোবর হাউজিং বাজারে ব্যবসায়ী সবুজ খানের প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ড এবং ৩০ সেপ্টেম্বর দৌলতপুরে তানভীর হোসেন শুভ (২৮)-এর গুলিতে নিহত হওয়া।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, খুলনায় প্রায় ৫০টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এছাড়া গুলি ও হামলার ঘটনা তার চেয়ে দ্বিগুণ। এসব ঘটনায় ৩০টির বেশি মামলা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের ৭০ শতাংশই মাদক ব্যবসা বা আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বের সঙ্গে সম্পর্কিত।
কেএমপি সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর, ফুলবাড়িগেট ও খালিশপুর এলাকায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ‘চরমপন্থি কানেকশন’ রয়েছে। সদর, সোনাডাঙ্গা ও লবণচরা থানায় একাধিক হত্যাকাণ্ডে সন্ত্রাসীদের সংশ্লিষ্টতা মিলেছে। প্রায় ২০টি মামলায় পূর্ব শত্রুতার প্রমাণ পাওয়া গেছে, বাকিগুলো মূলত মাদক বিরোধ সংক্রান্ত।
একাধিক হামলার ঘটনায় ‘গ্রেনেড বাবু’ গ্রুপের নাম এসেছে। তবে এই নামের আড়ালে অনেক সন্ত্রাসী নিজের পরিচয় লুকিয়েও কাজ করছে। আশিক ও নূর আজিম গ্রুপের কিছু সদস্য কারাগারে থাকলেও, তাদের অনুসারীরাই বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত।
খুলনা-৬ আসনের এনসিপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সাজিদুল ইসলাম বাপ্পি বলেন, সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম কমানো যাচ্ছে না। পুলিশের কিছু অংশ সন্ত্রাসী ও রাজনৈতিক দলের তথ্য দিয়ে তাদের পালাতে সাহায্য করছে। খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সন্ত্রাস দমন ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনা, পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম প্রয়োজন।
কেএমপি অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, “অপরাধ দমন করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। পুলিশ সক্রিয়ভাবে অপরাধীদের ধরছে।” কেএমপি কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, “৯০ শতাংশ ঘটনা মাদককেন্দ্রিক। ব্যক্তিগত স্বার্থ বা আক্রোশের কারণে কিছু ঘটনা ঘটে, রাজনীতির সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।”
খুলনার সাধারণ মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। শহরের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার সঙ্গে মিলিত হয়ে এই অপরাধ চক্রকে নিয়ন্ত্রণে আনা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au