ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোলে রিয়াল কোয়ার্টার ফাইনালে, চেলসি বিদায়
মেলবোর্ন, ১৮ মার্চ- সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে প্রথম লেগে ম্যানচেস্টার সিটি ৩-০ গোলে হারার পর রিয়াল মাদ্রিদ রিয়াল মাদ্রিদ ইতিহাদে ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জিতেছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের…
মেলবোর্ন, ২৬ নভেম্বর- বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক একটি চিত্র। বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ এখনও যেকোনো বড় ধরনের বিপর্যয়ে আবার দারিদ্র্যের ফাঁদে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রকাশিত “বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও বৈষম্য মূল্যায়ন ২০২৫” শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে দারিদ্র্য কমিয়েছে। এই সময়ে ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে ওঠে দাঁড়ায় এবং অতিদারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসে আরও ৯০ লাখ মানুষ। তাদের জীবনমান ও মৌলিক সেবায় প্রবেশাধিকারও উন্নত হয়েছে। তবে ২০১৬ সালের পর দারিদ্র্য কমার গতি স্পষ্টভাবে ধীর হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল তুলনামূলকভাবে ধনীদের দিকে বেশি প্রবাহিত হওয়ায় আয় বৈষম্যও বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চরম দারিদ্র্য ২০১০ সালের ১২ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। মাঝারি দারিদ্র্য একই সময়ে ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ১৮ দশমিক ৭। তবুও প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ অসুস্থতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আর্থিক আঘাতে আবারও দারিদ্র্য সীমার নীচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথ এখন আগের তুলনায় কম অন্তর্ভুক্তিমূলক। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ এলাকায় দারিদ্র্য কমার গতি এখনও তুলনামূলক ভালো হলেও শহর এলাকায় বিশেষ করে বড় শহরের বাইরে কর্মসংস্থান স্থবির। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নারী ও তরুণেরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের শ্রমবাজারে চাহিদা ও দক্ষতার মধ্যে বড় অসঙ্গতি রয়েছে। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের অর্ধেকই কম মজুরির কাজে নিয়োজিত। প্রতি পাঁচজন নারীর একজন বেকার, আর শিক্ষিত নারীদের বেকারত্ব আরও বেশি।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা ও ভুটান অঞ্চলের পরিচালক জ্যঁ পেম বলেন, বাংলাদেশের আগের সাফল্য অব্যাহত রাখতে হলে কর্মসংস্থান-কেন্দ্রিক নীতি গ্রহণ জরুরি। তার মতে, জলবায়ু সহিষ্ণু ও দারিদ্র্য-বান্ধব উন্নয়ন কৌশল ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে অগ্রগতি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।
সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে প্রতিবেদনটি বলছে, এসব কর্মসূচির আওতা বাড়লেও বরাদ্দের বড় অংশই সঠিকভাবে লক্ষ্যভিত্তিক নয়। ধনী পরিবারের ৩৫ শতাংশ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা পায়, অথচ অতি দরিদ্র অর্ধেক পরিবারই এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ভর্তুকির ক্ষেত্রেও এই বৈষম্য দেখা যায়।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন দারিদ্র্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বিদেশে যেতে উচ্চ খরচ দরিদ্র মানুষকে পিছিয়ে রাখছে। অন্যদিকে গ্রাম থেকে শহরে আসা অভিবাসীরা ঘিঞ্জি পরিবেশে কম সুযোগ নিয়ে জীবনযাপন করেন।
বিশ্বব্যাংকের দাবি, সামনে এগোতে হলে কর্মসংস্থান বাড়ানো, বৈষম্য কমানো এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হবে। দেশের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত না করলে অর্জিত অগ্রগতিও টেকসই হবে না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au