তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল স্বাভাবিক, এক মাসের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আশ্বস্ত অস্ট্রেলিয়া , ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৮ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যেও অস্ট্রেলিয়া-তে তেলবাহী ট্যাঙ্কারের আগমন স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা। শিল্প খাতের ভাষ্য, পরিস্থিতি অনিশ্চিত হলেও এখন পর্যন্ত সরবরাহে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি এবং অন্তত আগামী এক মাস জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ থাকবে।
জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক সংবাদদাতা জেক ইভান্স-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলবাহী জাহাজগুলো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাচ্ছে এবং এই প্রবাহ অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে। শিল্প খাত জোর দিয়ে বলছে, “ট্যাঙ্কারগুলো কখনোই আসা বন্ধ করেনি।”
মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের এক বৈঠকে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া হয় যে, দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মূলত চাহিদা-নির্ভর, সরবরাহ ঘাটতির কারণে নয়।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর পর গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেলের সরবরাহ নির্ধারিত সময়েই অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাচ্ছে।
এনআরএমএ-এর মুখপাত্র পিটার খৌরি জানান, গত সপ্তাহে ১৮টি জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার অস্ট্রেলিয়ায় এসেছে এবং আরও ৩৩টি জাহাজ পথে রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেন, “তেল কোম্পানিগুলো আশা করছে মার্চজুড়ে এবং এপ্রিলের অনেকটা সময় পর্যন্ত সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত হওয়ায় আমরা আগাম পরিকল্পনা করছি।”
জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পিটার খৌরি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে এমন কোনো সময় ছিল না যখন তেলের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে কঠিন সময়েও, যখন ডারউইনে বোমা হামলা হচ্ছিল এবং ইউরোপের বড় অংশ নাৎসি জার্মানির দখলে ছিল, তখনও অস্ট্রেলিয়ায় তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়নি। ট্যাঙ্কারগুলো কখনোই থামেনি।”
এদিকে হরমুজ প্রণালীর প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক পর্যায়ে তৎপরতা চলছে। অস্ট্রেলিয়া সরাসরি মধ্যপ্রাচ্য থেকে খুব কম জ্বালানি আমদানি করে; দেশটির বেশিরভাগ জ্বালানি আসে দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং ব্রুনেই থেকে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মাত্র ১১৮.২ মিলিলিটার তেল আমদানি করা হয়, যেখানে এশিয়ার দেশগুলো থেকে এসেছে ৫,৬০০ মিলিলিটারেরও বেশি।
তবে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলো ইরানসহ হরমুজ প্রণালীর প্রভাবিত অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে তা পরিশোধন করে অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য দেশে রপ্তানি করে। ফলে প্রণালীতে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে এশিয়ার পরিশোধন খাতেও চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।