ইয়েমেনে ভয়াবহ সংঘর্ষ, একদিনেই নিহত ১৪১
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত কয়েকটি…
মেলবোর্ন, ৪ ডিসেম্বর- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখনও লন্ডনে বাংলাদেশ মিশনের কাছে দেশে ফেরার জন্য কোনো ট্রাভেল পাস চাননি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ধরনের কোনো আবেদন তাদের কাছে আসেনি।
দলের ভেতরের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানায়, তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন, সেটা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে তাঁর মা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ওপর। খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজন আছে কি না, সেটা নির্ধারণ করবেন বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আর মেডিকেল বোর্ড। যদি তারা মনে করেন, তাঁকে আর বিদেশে নিয়ে যাওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা নেই, তাহলে তারেক রহমান খুব দ্রুত দেশে ফিরবেন। আর যদি তাঁকে বিদেশে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়, চিকিৎসকেরা সেই পরামর্শ দিলে সে পথই অনুসরণ করা হবে।
দলের সূত্রটি জানায়, বিদেশে নেওয়ার অনুমতি পেলে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য প্রথম পছন্দ হবে লন্ডন। সে ক্ষেত্রে তারেক রহমান সেখানেই থাকবেন মায়ের পাশে। আর দীর্ঘ বিমানযাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ হলে সিঙ্গাপুর বিবেচনায় থাকবে। সে ক্ষেত্রে তারেক রহমান সিঙ্গাপুরে যাবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরতে মানসিকভাবে প্রস্তুত। তবে তিনি মায়ের চিকিৎসকদের চূড়ান্ত মতামতের অপেক্ষায় আছেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে তিনি যে আইনি স্ট্যাটাসে আছেন, সেটারও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করতে চান, যাতে দেশে ফেরার পর কোনো জটিলতা না থাকে।
এর আগে গত রোববার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরতে চাইলে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। তাঁর পাসপোর্ট যদি অব্যবহারযোগ্য বা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়, তাহলেও এক দিনের মধ্যে ওয়ান টাইম ট্রাভেল পাস দেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, আবেদন করলে পরদিনই প্লেনে ওঠা সম্ভব, এতে কোনো অসুবিধা নেই।
খালেদা জিয়া বর্তমানে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। ২৩ নভেম্বর রাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পর থেকে তিনি টানা ১১ দিন ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন এবং তাঁর অবস্থা এখনও উদ্বেগজনক।
গত জানুয়ারিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সেখানে কিছুদিন হাসপাতালে এবং পরে তারেক রহমানের বাসায় থেকে চিকিৎসা নেন। প্রায় চার মাস পর ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন।

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর আটক হয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। ছবিঃ বিবিসি
তারেক রহমান ২০০৭ সালে এক এগারোর পর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান এবং তারপর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন। তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান গত মে মাসে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশে এসেছিলেন, পরে আবার লন্ডনে ফিরে যান। তিনি কোন দেশের পাসপোর্টে এসেছিলেন, তা পরিষ্কার নয়।
গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তারেক রহমানের সাজা বাতিল বা অব্যাহতি মেলে। সেই থেকে তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিকভাবে আলোচনা চলছে।
সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন।
সূত্রঃ প্রথম আলো
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au