ইয়েমেনে ভয়াবহ সংঘর্ষ, একদিনেই নিহত ১৪১
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত কয়েকটি…
মেলবোর্ন, ১০ ডিসেম্বর- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড এবং ব্রিটিশ সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিকের দুই বছরের কারাদণ্ড আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার আইনজীবীরা বলছেন, সাম্প্রতিক বিচারের ধারাবাহিকতা দেশের বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার শঙ্কা বাড়িয়েছে।
গত মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ‘জুলাই বিপ্লব’ নামে পরিচিত সেই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয় এবং পরবর্তীতে হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।
একই ট্রাইব্যুনাল টিউলিপ সিদ্দিককে একটি প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে অনুপস্থিতিতেই দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়। সিদ্দিক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে ১৯৭৩ সালে গঠিত এই ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত পাঁচটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।
রায়ের পর এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক বার অ্যাসোসিয়েশন হিউম্যান রাইটস ইনস্টিটিউট জানায়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারে উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিটি বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে হতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি যে কোনো পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড ব্যবহারের বিরোধিতা করে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক রায়গুলো স্বীকৃত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় গণতান্ত্রিক মানদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
হাসিনার পক্ষে আন্তর্জাতিক আইনজীবী দল জানিয়েছে, তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানানো হয়নি, পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগও ছিল না। ন্যায্য বিচার ছাড়াই মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা কার্যত বিচারবহির্ভূত হত্যার সমান বলে তারা মন্তব্য করেছেন।
সংস্থাটির সহসভাপতি মার্ক স্টিফেনস বলেছেন, টিউলিপ সিদ্দিকের মামলার মতো আইনজীবীদের হুমকি, ভয়ভীতি ও হয়রানি ন্যায্য বিচারপ্রক্রিয়াকে কঠোরভাবে ব্যাহত করছে। তিনি বলেন, এসব আচরণ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারকে তুলে ধরে। তার আহ্বান, আইনজীবীরা যেন স্বাধীন ও নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন এবং বিচারব্যবস্থা যেন রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার না হয়।
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশকে সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করতে এবং স্থায়ীভাবে মৃত্যুদণ্ড বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে আহ্বান জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, এসব রায় ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রগতির ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au