মিজানুর রহমান, ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ ডিসেম্বর- যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ‘দেশসেরা উদ্ভাবক’ হিসেবে পরিচিত মিজানুর রহমান আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার সন্ধ্যায় কারাগারের অভ্যন্তরে একটি কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। মিজানুর রহমান যশোরের শার্শা উপজেলার আমতলা গ্রামের আক্কাচ আলীর ছেলে।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে যেকোনো এক সময় তিনি কারাগারের কার্পেট চালি এলাকায় প্রবেশ করেন। সেখানে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি টের পেয়ে কর্তব্যরত কারারক্ষীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেন। তবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ জানান, মিজানুর রহমান মূলত কপোতাক্ষ-৩ ভবনে বন্দি ছিলেন। কৌশলে তিনি কার্পেট চালির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং সেখানেই ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিবারকে জানানো হয়েছে। স্বজনরা এলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
পুলিশ দাবি, চলতি বছরের ২৪ জুলাই শ্যালক হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা পাওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর আদালত এ রায় দেন। স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘদিন পর সাজা কার্যকর হওয়ায় মানসিক চাপে এবং হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন।
মিজানুর রহমান একসময় ওয়ার্কশপ মেকানিক হিসেবে কাজ করলেও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ভাবনের মাধ্যমে গত এক দশকে জেলায় পরিচিতি পান ‘উদ্ভাবক মিজান’ নামে। তিনি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ যানবাহন তৈরি করেন। এসব উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি দেশসেরা উদ্ভাবকের পুরস্কারও পেয়েছিলেন। পরে নিজের অর্জিত সম্পদ মানবতার সেবায় দান করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
ঘটনার বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে। আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত প্রতিবেদন অপেক্ষাধীন রয়েছে।