ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৫৭
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও…
মেলবোর্ন, ১৫ ডিসেম্বর- রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বড় ধরনের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ন্যাটো সামরিক জোটে যোগদানের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এই প্রস্তাব আসে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে টানা পাঁচ ঘণ্টার আলোচনার পর। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই আলোচনা সোমবারও অব্যাহত থাকার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বৈঠক শেষে বলেছেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তার সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত হিসেবে বিবেচিত ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে তারা প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে এই আলোচনা করেন। তবে বৈঠকের পূর্ণ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
জেলেনস্কির উপদেষ্টা দিমিত্রি লিটভিন জানিয়েছেন, বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতি সোমবার আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলবেন। তিনি বলেন, আলোচনায় উত্থাপিত খসড়া নথিগুলো এখন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে সাংবাদিকদের লিটভিন জানান, পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা চলে এবং সকালে আবার বসার সিদ্ধান্ত নিয়েই বৈঠক শেষ হয়।
আলোচনার আগে থেকেই জেলেনস্কি পশ্চিমা নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিনিময়ে ন্যাটোতে যোগদানের লক্ষ্য থেকে সরে আসার প্রস্তাব দেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইউক্রেনের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিতে একটি বড় পরিবর্তন। রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকেই ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগদানকে নিজেদের নিরাপত্তার প্রধান ভরসা হিসেবে দেখে এসেছে। এমনকি দেশটির সংবিধানেও ন্যাটো সদস্যপদের আকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ আছে।
এই অবস্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে রাশিয়ার অন্যতম প্রধান দাবি আংশিকভাবে পূরণ হলেও ইউক্রেন এখনো পর্যন্ত কোনো ভূখণ্ড মস্কোর কাছে ছেড়ে দিতে সম্মত হয়নি। কিয়েভ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভৌগোলিক সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তারা আপস করবে না।
স্টিভ উইটকফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, প্রতিনিধিরা শান্তির জন্য একটি ২০ দফার পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক এজেন্ডা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গভীর আলোচনা করেছেন। তার ভাষায়, উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং উভয় পক্ষ আবার আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।
এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনার আয়োজন করেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। আলোচনায় সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মের্ৎস সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার পর বৈঠকের স্থান ত্যাগ করেন এবং প্রতিনিধিদের একান্ত আলোচনার সুযোগ করে দেন। সোমবার আরও কয়েকজন ইউরোপীয় নেতা আলোচনায় অংশ নিতে জার্মানিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ন্যাটো প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, শুরু থেকেই ইউক্রেনের ইচ্ছা ছিল ন্যাটোতে যোগ দেওয়া, কারণ এটিই প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কিছু অংশীদার দেশ এই বিষয়টিকে সমর্থন করেনি।
তিনি বলেন, এই বাস্তবতায় এখন ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ন্যাটোর আর্টিকেল ফাইভের সমতুল্য সুরক্ষা এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি কানাডা ও জাপানের মতো মিত্রদের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়া ভবিষ্যতে আরেকটি রুশ আগ্রাসন ঠেকানোর একটি বাস্তব সুযোগ হতে পারে।
জেলেনস্কি আরও বলেন, বর্তমান ফ্রন্টলাইন ধরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা একটি ন্যায্য বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সব মিলিয়ে ন্যাটোতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা থেকে ইউক্রেনের সরে আসা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় একটি বড় মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অবস্থান পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ অবসানের পথ সুগম করে কি না, সে দিকে এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au